রোববার ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:০৫, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

কক্সবাজারে দারুল আরকাম মাদ্রাসা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
ছবিঃ প্রতিনিধি

কক্সবাজারের  ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও শিক্ষা কার্যক্রম না থাকলেও কাগজে-কলমে মাদ্রাসা দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ফি আদায় এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তথ্য দারুল আরকাম প্রকল্পে দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় বন্ধে প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন দুই ব্যক্তি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দেওয়া আবেদনে দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকৃত শিক্ষা কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও কাগজে-কলমে দারুল আরকাম মাদ্রাসা দেখানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নূরানী, কওমি, ক্যাডেট, নন-এমপিও ও দাখিল মাদ্রাসার কার্যক্রম যুক্ত রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কোনো কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এমনকি কোথাও মাদ্রাসায় উপস্থিত না থেকেও উপজেলা, জেলা কিংবা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বকেয়া বেতন-ভাতা তুলে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আবেদনে বলা হয়েছে, দারুল আরকাম মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ফি নেওয়ার কোনো বিধান না থাকলেও কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০০, ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত মাসিক ফি আদায় করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার একটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি, উপজেলার আরও কয়েকটি দারুল আরকাম মাদ্রাসায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না।

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের পূর্ব পাহাড়তলী এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিচালিত একটি দারুল আরকাম মাদ্রাসা নিয়েও অভিযোগ করা হয়েছে। আবেদনে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কেন্দ্রীয় শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুযোগ নিয়ে মাদ্রাসার কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা না করেও বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য আবেদনে উল্লেখ নেই।

আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, দারুল আরকাম প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে নূরানী, কওমি, ক্যাডেট, নন-এমপিও ও দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের তথ্যও দেখানো হচ্ছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দারুল আরকাম মাদ্রাসার প্রকৃত সম্পর্ক এবং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থী দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারীরা।

এছাড়া দারুল আরকাম প্রকল্পের আওতায় সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি শিক্ষক সমিতির মাধ্যমে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির নামে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।

আবেদনকারীরা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত মাদ্রাসাগুলোর বাস্তব অবস্থা, শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি, প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের হিসাব যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।

আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রজন্ম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, কক্সবাজারের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী মাহিন এবং নাগরিক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, পেকুয়া, কক্সবাজারের সদস্য আবদুর রহমান নূরী।

জনপ্রিয়