শনিবার ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ইউসুব আলী, রাজশাহী কলেজ

প্রকাশিত: ২২:৩১, ৭ এপ্রিল ২০২৬

সুস্থ জীবন, সচেতন প্রজন্ম: বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের বার্তা

সুস্থ জীবন, সচেতন প্রজন্ম: বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের বার্তা
ছবি: সংবাদ পরিক্রমা

প্রতি বছর ৭ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়-স্বাস্থ্যই মানবজীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ এবং একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গঠনের মূলভিত্তি।

শিক্ষার্থীদের মতে, স্বাস্থ্য বলতে শুধু রোগমুক্ত থাকা বোঝায় না; বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার একটি সমন্বিত অবস্থা। তাই সুস্থ জীবন গঠনে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। একই সঙ্গে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা এবং ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও তারা গুরুত্বারোপ করেন।

বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে হাম-এর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। এ পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব।

তরুণ প্রজন্ম বিশ্বাস করে, নিজেদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজকে উদ্বুদ্ধ করেই একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতে আরও বিনিয়োগ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও জানান তারা।শিক্ষার্থীদের এই মতামত তুলে ধরেছেন সংবাদ পরিক্রমার রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধি ইউসুব আলী।

“নিজের স্বাস্থ্য রক্ষা করা মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা”

বর্তমান সময়ে আমরা নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, যা আমাদের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। তাই স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত ব্যায়াম করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।একই সঙ্গে আমাদের দেশের স্বাস্থ্যখাতেও আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি। উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, এটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে-নিজের স্বাস্থ্য রক্ষা করা মানেই দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা। তাই আসুন, আমরা সবাই স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হই এবং একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও উন্নত জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখি।
(লেখক:নাবিলা রাইসা ঐশী, শিক্ষার্থী,
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)

"স্বাস্থ্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব"

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়-স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্বও। সুস্থতা মানে শুধু রোগমুক্ত থাকা নয়; বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকা।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে মানুষের মধ্যে অলসতা বাড়ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অপরিহার্য। ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করে শাকসবজি, ফলমূল গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

এছাড়া ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম শর্ত। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দৈনন্দিন চাপ কমাতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ইতিবাচক চিন্তা-ভাবনা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকাদান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ একটি সুস্থ জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে। সবশেষে বলা যায়, “প্রতিরোধই চিকিৎসার চেয়ে উত্তম”-এই নীতি মেনে চললে আমরা একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ গড়ে তুলতে পারি।
(লেখক: নাছিমুল হক, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)

"সুস্বাস্থ্যই আসল সম্পদ"

সুস্বাস্থ্যই আসল সম্পদ। ৭ই এপ্রিল দিনটিতে সারা বিশ্বে বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস পালন করা হয়।বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও সুরক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সকলের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন; এছাড়াও তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করতে পারলে একটি মেধাবী জাতি গঠন করা যাবে। সাধারণ জনগণকে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে; এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও দরিদ্র মানুষদের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জনগণের মাঝে বিতরণ করতে হবে। স্বাস্থ্যকে শুধু ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়; মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য ঝুঁকির মোকাবেলায় সবার একসাথে প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ ও জাতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
(লেখক:হুমাইরা সুলতানা মল্লিক, শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ)

"সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়"

দেশের স্বাস্থ্যখাত এখনো কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারেনি; উন্নত বিশ্বের তুলনায় আমরা উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে। অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, চিকিৎসক ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা এই খাতকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।একই সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের বিস্তার ক্রমশ বাড়ছে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এখনো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত।
হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘ অপেক্ষা, শয্যা সংকট এবং সেবার সমন্বয়ের অভাব রোগীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।এই বাস্তবতায় জরুরি হয়ে পড়েছে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা। পাশাপাশি কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।যদি পর্যাপ্ত জনবল, আধুনিক অবকাঠামো এবং সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তবে দেশের স্বাস্থ্যখাত একটি টেকসই উন্নয়নের পথে এগোবে। তখনই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেশের প্রতিটি মানুষের নাগালে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
(লেখক:ফরিদ আহমেদ, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)

“শিশুর সুস্থতাই সুস্থ জাতির ভিত্তি”

৭ই এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়-স্বাস্থ্যই মানবজীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। সুস্থতা মানে শুধু রোগমুক্ত থাকা নয়; বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকা। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই তাদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে হাম-এর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। কারণ শিশুর সুস্থতাই সুস্থ জাতির ভিত্তি।
একই সঙ্গে সমাজব্যাপী স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। কারণ একটি সুস্থ জাতি গড়তে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে-স্বাস্থ্যই আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।
(লেখক:মোসলিমা মৌ, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ)

"সঠিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ"

স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত গবেষণা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আমাদের দেশ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়ছে-যার প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায়। সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় ধরনের রোগের যথাযথ চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রয়োজন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি, নতুবা ভবিষ্যতে দেশ আরও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পড়তে পারে।

গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি স্তরে যেন সকল মানুষ সমানভাবে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার আহ্বান-নিজে সচেতন হই, অন্যকেও সচেতন করি; কারণ সুস্থ জাতি গঠনে সচেতনতার বিকল্প নেই।
(লেখক: মোঃ সোহেল রানা, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ)

জনপ্রিয়