নবীন শিক্ষার্থীদের চোখে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনেই এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দীর্ঘ জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যখন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রাঙ্গণে প্রথম পা রাখেন, তখন তাদের চোখে ছিল কৌতূহল, উচ্ছ্বাস আর অসংখ্য প্রত্যাশার ঝিলিক।
টাইমস হায়ার এডুকেশনের র্যাঙ্কিংয়ে দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকা যবিপ্রবি জিএসটি গুচ্ছভুক্ত শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের বিদ্যাপীঠ। যশোর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের আমবটতলা সংলগ্ন এলাকায় ৩৫ একরের সবুজে ঘেরা, সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন এই ক্যাম্পাস যেন এক প্রশান্তির ঠিকানা। আধুনিক স্থাপত্য, সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে এই ক্যাম্পাস এক অনন্য রূপ নিয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই আঙিনায় পা রেখে কেমন অনুভূতি নবীনদের? তাদের সেই স্বপ্ন, প্রত্যাশা, নতুন পথচলা ও বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন ঘিরে নানা ভাবনার কথাই তুলে ধরেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ পরিক্রমা প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম।
চলুন, শুনে নেওয়া যাক নবীনদের কণ্ঠে তাদের গল্পগুলো,
‘এক টুকরো প্রশান্তির ঠিকানা, ভালোবাসার নতুন সূচনা’
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী অর্থী খাতুন বলেন, ‘প্রথম দেখাতেই যবিপ্রবির শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ মন ছুঁয়ে গেছে। ক্যাম্পাসটিকে মনে হয়েছে এক টুকরো প্রশান্তির ঠিকানা। কলেজজীবন শেষে নতুন অধ্যায়ের শুরুতে এখানে পা রেখে স্বপ্ন, আনন্দ আর অচেনা ভালো লাগার এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছে। মনে হচ্ছে, এতদিন দূর থেকে দেখা স্বপ্নটি আজ বাস্তবের খুব কাছাকাছি। এই পথ, গাছ আর প্রাঙ্গণের প্রতিটি কোণ একদিন আমার স্মৃতির অংশ হয়ে থাকবে। প্রথম অনুভূতিটা শুধু ভালো লাগার নয়, এটি নতুন করে স্বপ্ন দেখা এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার এক অনন্য অধ্যায়। প্রথম দর্শনের এই মুগ্ধতা সময়ের সঙ্গে গভীর ভালোবাসায় রূপ নেবে বলেই বিশ্বাস করি।’
‘দীর্ঘ সাধনার পর বাবার হাত ধরে স্বপ্নপূরণের পথে’
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাজনীন জাহান দিশা বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ আর অপেক্ষার পর যবিপ্রবিতে ভর্তি হতে পারা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। বাবার হাত ধরে স্বপ্নের এই প্রাঙ্গণে প্রথম পা রেখে মনে হয়েছে, বহুদিনের লালিত স্বপ্ন আজ সত্যি হয়েছে। নবীনদের বরণ করে নিতে শিক্ষক ও সিনিয়রদের আন্তরিকতা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। ৩৫ একরের সবুজ প্রাঙ্গণ, লাল-নীল বাস আর নতুন বন্ধুদের সান্নিধ্য প্রথম দিনটিকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। নিজের সাফল্যের মাধ্যমে প্রিয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব ও সুনাম বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে চাই।’
সীমিত পরিসরে বিশাল সম্ভাবনা, বহুদূর এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন’
অ্যাপ্লাইড স্ট্যাটিস্টিকস অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির উদ্দিন সামি বলেন, ‘৩৫ একরের পরিচ্ছন্ন ও নিরিবিলি এই ক্যাম্পাস প্রথম দিনেই আমাকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করেছে। আয়তনে ছোট হলেও এর পরিপাটি সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশ যেকোনো মানুষকেই আকৃষ্ট করবে। বলতে গেলে আমাদের বিভাগটি নবপ্রতিষ্ঠিত এবং আমরা দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী। শুরুর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকদের আন্তরিকতা, সিনিয়রদের সহযোগিতা এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেগুলো ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একদিন আমাদের বিভাগ দেশের অন্যতম সেরা বিভাগে পরিণত হবে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে, বিভাগকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে চাই।’
‘উষ্ণ অভ্যর্থনা আর আন্তরিক দিকনির্দেশনার নতুন ঠিকানা’
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সানাউল হক রিমন বলেন, ‘নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আমার জন্য এক নতুন ও রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা। যবিপ্রবির সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাস, নতুন সহপাঠী এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ প্রথম দিনেই আমাকে মুগ্ধ করেছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় ও একসঙ্গে শেখার পরিবেশ আমাদের পথচলাকে আরও আনন্দময় করে তুলছে। বিভাগের শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং সিনিয়রদের আন্তরিক সহযোগিতা এই নতুন পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে আমাকে অনেক সাহস জুগিয়েছে।’
‘ভয় কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসের ঠিকানায় নতুন যাত্রা’
ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী লামিশা জান্নাত তটিনি বলেন, ‘যবিপ্রবির নবীন শিক্ষার্থী হিসেবে এখানে এসে যেন এক নতুন জগতের সন্ধান পেয়েছি। শুরুতে অচেনা পরিবেশ কিছুটা ভীতিকর মনে হলেও এখানকার মানুষের আন্তরিকতা খুব দ্রুত সেই ভয় দূর করে দিয়েছে। ছোট, পরিচ্ছন্ন ও সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাসটি প্রতিদিনই নতুন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। এখানে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানই নয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্বপ্ন গড়ে তোলার প্রেরণাও পাচ্ছি। যবিপ্রবি পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য এবং ফিশারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগে ভর্তি হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।



























