শনিবার ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:২২, ৭ নভেম্বর ২০২৬

মুশফিকের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন তাওহীদ হৃদয়

মুশফিকের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়লেন তাওহীদ হৃদয়
ছবিঃ সংগৃহীত

সতীর্থরা একের পর এক সাজঘরে ফিরেছেন, ভেঙেছে জুটি, বাড়তে থেকেছে দলের চাপ। কিন্তু এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট হাতে অবিশ্বাস্য লড়াই চালিয়ে গেছেন তাওহীদ হৃদয়। তাঁর দৃঢ়তায় শুধু বড় সংগ্রহই পায়নি বাংলাদেশ, গড়েছে টেস্ট ইতিহাসের নতুন রেকর্ডও। ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমে ২৪২ রানে অপরাজিত থেকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক হয়েছেন এই তরুণ ব্যাটার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে ৯ উইকেটে ৩৮৬ রানে। এতে সফরকারীদের বিপক্ষে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। চোটের কারণে সাদমান ইসলাম ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় ২৪২ রানে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে হৃদয়কে।

৩৫৯ বলের ইনিংসে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। তাঁর এই অনবদ্য ইনিংসে ভেঙেছে মুশফিকুর রহিমের গড়া দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রান করে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েছিলেন মুশফিক। হৃদয়ের ২৪২ রানের ইনিংসে এবার সেই রেকর্ড নতুন করে লেখা হলো।

অবশ্য তৃতীয় দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। আগের দিনের ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। ৩৪ রান করে জোমেল ওয়ারিকেনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুশফিক। একই বোলারের শিকার হয়ে মাত্র ৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন লিটন।

এরপর হৃদয়ের সঙ্গে জুটি বাঁধেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনের ব্যাটে আসে ৪১ রান। তবে ১৬ রান করে মিরাজের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি। পরের ব্যাটার হাসান মাহমুদও ক্রিজে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। তাঁর সংগ্রহ মাত্র ১ রান। ফলে আবারও উইকেট হারানোর চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

তবে দলের বিপর্যয়ের মধ্যেও হাল ছাড়েননি হৃদয়। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে নিতে থাকেন ইনিংস। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর জুটিটি বাংলাদেশের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করে। দুজন মিলে গড়েন ১১৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এই জুটির সুবাদেই ৩০০ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ২২ রান করে তাইজুল স্টাম্পিংয়ের শিকার হলে শেষ হয় এই জুটি। এটি ছিল ওয়ারিকেনের চতুর্থ শিকার।

তাইজুলের বিদায়ের পর শেষ ব্যাটার তাসকিন আহমেদকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। তাসকিনের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। অন্য প্রান্তে অবিচল হৃদয় তুলে নেন একের পর এক রান। এই জুটির মধ্যেই ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত তাসকিনের বিদায়ে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে ৩৮৬ রানে। তবে ততক্ষণে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে লিড এনে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়