বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১:২৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬

হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুক-ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক

হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুক-ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে জার্মান পর্যটক
ছবিঃ প্রতিনিধি

‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি যাওয়া নিজের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার।

বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে বিকেল চারটা পর্যন্ত তাঁর চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘আমি জানি, পুলিশ কর্মকর্তারাও আমার জিনিসপত্র উদ্ধার করার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।’

পুলিশ ও ওই পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার নাটোর রেলস্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষে থাকা অবস্থায় ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ক্রিল ল্যান্ডার। এ সময় নিজের জিনিসপত্র এক ব্যক্তির কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তাঁর জিনিসপত্র নেই।

ক্রিল ল্যান্ডারের ব্যাগে একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, যাঁর কাছে জিনিসপত্র রেখে গিয়েছিলেন, তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। এ ঘটনায় তিনি নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর পুলিশ ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আমরা আমার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাব।’
ল্যাপটপে তাঁর পাসপোর্ট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, পাসপোর্ট ও মুঠোফোন তাঁর কাছেই রয়েছে। তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই তাঁর প্রথম সফর। পুলিশ তাঁকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় জিডি করেন ওই পর্যটক। বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
ওসি বলেন, প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেসের মালিক ও কেয়ারটেকারদেরও বিষয়টি জানানো হয়।

হাফিজুর রহমান জানান, ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। রাতে অবস্থানেরও পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে ল্যাপটপটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়।

তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। ওই সময় তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন সেখানে থাকার কথা ছিল। পরে ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায় রেলওয়ে পুলিশ। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার করা যায়নি।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এখনো আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সঠিক লোকেশন পাওয়া গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তাঁর জিনিসপত্র যাতে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।’

পুলিশ জানায়, আরএমপি, ডিবি, র‍্যাব, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে। সেটিও বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

পুলিশ ও ক্রিল ল্যান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ভুল করে নাটোরে নেমেছিলেন তিনি। পরে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই যুবকের কাছে জিনিসপত্র রেখে এটিএম থেকে টাকা তুলতে গেলে যুবকটি ব্যাগ নিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়