রোববার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪:১৩, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরায় খাবারে বিষ মিশিয়ে চুরির অভিযোগ

সাতক্ষীরায় খাবারে বিষ মিশিয়ে চুরির অভিযোগ
ছবিঃ প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর গ্রামে খাবার বা পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর সন্দেহের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ার সুযোগে বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়ির গ্রিল কেটে সাড়ে চার ভরি সোনার গহনা ও নগদ দেড় লাখ টাকাসহ সাত লাখ টাকার বেশি মূল্যের মালামাল চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শুক্রবার ৯ অক্টোবর ২০২৬ দিবাগত গভীর রাতে ব্রহ্মরাজপুর গ্রামের সাহাপাড়ায় সঞ্জয় সাহা ওরফে লিটনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের পেছনের জানালা ও সামনের বারান্দার গ্রিল কাটা এবং ঘরের জিনিসপত্র তছনছ অবস্থায় দেখতে পান।

ভুক্তভোগী সঞ্জয় সাহা নিতাই সাহার (কবিরাজ) ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা শহরের সার্কিট হাউস মোড়ের পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত।

সঞ্জয় সাহা জানান, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রী মৌসা রানী সাহা ছোট ছেলে দীপ্ত সাহাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার পথে প্রাণ ডাক্তারের বাড়ির সামনে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বাড়িতে ফিরে আসার পর তিনি নিজে, তাঁর মা মনিকা সাহা এবং বড় মেয়ে পিউ সাহাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পিউ সাতক্ষীরা ডিবি গার্লস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পরে তাঁরা স্থানীয় পল্লিচিকিৎসক বিকাশের কাছে চিকিৎসা নেন।

সঞ্জয় সাহার ভাষ্য, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খাওয়াদাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে উঠে তাঁরা বাড়ির পেছনের জানালার গ্রিল কাটা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো দেখতে পান। পরে শোকেসের ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।

তিনি জানান, চোরেরা শোকেস থেকে তিনটি সোনার চেইন, দুই জোড়া সোনার কানের দুল, এক জোড়া শাঁখা বাঁধানো গয়না, এক জোড়া কানপাশা, দুটি সোনার আংটি, সোনার চেইনের দুটি লকেট ও একটি মঙ্গলসূত্র নিয়ে গেছে। এ ছাড়া নগদ দেড় লাখ টাকাও চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ সাত লাখ টাকার বেশি বলে দাবি তাঁর।

সঞ্জয় সাহার সন্দেহ, রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা পানির ফিল্টার কিংবা রান্নাঘরে থাকা খাবারে বিষাক্ত কোনো পদার্থ মেশানো হয়ে থাকতে পারে। সেই পানি বা খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়ার সুযোগে চোরেরা বাড়িতে ঢুকে চুরি করে। তবে খাবার বা পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল থেকে ভাত ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়