সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খুকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিকাদান ও সচেতনতায় হতে পারে জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব

টিকাদান ও সচেতনতায় হতে পারে জলাতঙ্কমুক্ত বিশ্ব
গ্রাফিক্স

“Rabies kills. But it is 100% preventable”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হচ্ছে। প্রাণী ও মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাণীর নিয়মিত টিকাদান এবং আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়।

জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা লালার সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। রোগটির উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পর এটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, মানুষের জলাতঙ্কের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংক্রমণের উৎস কুকুরের কামড়। তাই জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে কুকুরসহ পোষা ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণীর নিয়মিত টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বেওয়ারিশ প্রাণীর মানবিক ব্যবস্থাপনা, দায়িত্বশীল প্রাণী পালন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিও প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে ক্ষতস্থানটি দ্রুত সাবান ও প্রচুর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে জলাতঙ্কের টিকা ও পোস্ট-এক্সপোজার প্রফাইল্যাক্সিস (PEP) গ্রহণ করতে হয়। আক্রান্ত প্রাণীকে নিজে থেকে ধরার বা চিকিৎসা করার চেষ্টা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা প্রাণিচিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া উচিত।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থাই নয়, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিনের সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা বা One Health approach গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রাণীর টিকাদান, দায়িত্বশীল পোষা প্রাণী পালন, নিরাপদ আচরণ এবং সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে রোগটির বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবসে তাই সবার প্রতি আহ্বান—প্রাণীকে টিকা দিন, কামড় বা আঁচড়কে অবহেলা করবেন না এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিন। সুস্থ প্রাণীই গড়ে তুলতে পারে নিরাপদ সমাজ এবং জলাতঙ্কমুক্ত ভবিষ্যৎ।

জনপ্রিয়