রাবিপ্রবিতে ক্লাব কার্যক্রম বিকাল ৪টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) সব ক্লাবের অনুষ্ঠান, সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম প্রতিদিন বিকাল ৪টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নির্দেশনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফখরুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও একাডেমিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার লক্ষ্যে সব ক্লাবের কার্যক্রমের সময়সীমা প্রতিদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এ সময়সীমা অনুসরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে প্রশাসনের নতুন এ নির্দেশনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একাডেমিক কার্যক্রমের পর ক্লাবের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সীমিত হলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দক্ষতা বিকাশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগে প্রভাব পড়তে পারে।
রাবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. আয়নুল ইসলাম বলেন, “ক্লাবের কার্যক্রম সাধারণত একাডেমিক কার্যক্রম শেষে ও বন্ধের দিনে পরিচালনা করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।”
সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী ও সিএসই কম্পিউটার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম বলেন, “বড় ক্যাম্পাসগুলোর মতো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আমরা এমনিতেই পাই না। বিভিন্ন প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান উপলক্ষে যে সামান্য সময় ক্যাম্পাসে থাকার সুযোগ তৈরি হয়, নতুন এই নিয়মের কারণে আমরা তা থেকেও বঞ্চিত হতে পারি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়মটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আঁখি নাথ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাবের কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম শেষে শিক্ষার্থীরা ক্লাব কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। এতে নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি, তবে সময়সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা ও ক্লাব কার্যক্রমের ধরন বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
শিক্ষার্থীদের মতে, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্লাবগুলোর নিয়মিত কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টিও প্রশাসনের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা কিংবা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজনীয়তা ভিন্ন হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে সময়সীমা নির্ধারণের কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত উদ্বেগের বিষয়ে প্রশাসনের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



























