রাবিপ্রবিতে প্রাণ নাশের হুমকির অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মধ্যকার ক্রিকেট খেলার সময় ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ সাঈদের বিরুদ্ধে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (০৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট খেলায় ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ মুখোমুখি হয়। খেলা শুরু হওয়ার পর থেকে নানাভাবে হুমকি প্রদান ও মা-বাবাকে তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগে বলা হয়, “আমরা রাবিপ্রবির ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী হই। ০৬ অক্টেবর ২০২৬ তারিখে ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি হ্যান্ডবল ফাইনালে একটি অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। উক্ত ঘটনা সমাধান হওয়ার পরেও উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ০৭/১০/২৬ তারিখে সকালে ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ক্রিকেট খেলা চলাকালীন সময়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মোঃ সাঈদ প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ইট নিয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারার জন্য এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে বেপরোয়াভাবে বলতে থাকে যে, আজকে কোনো কথা হবেনা, কথা বললে মার্ডার হবে।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, “ম্যাচ চলাকালীন সময়ে শারীরিক শিক্ষা ডিপার্টমেন্টের সামনে অকথ্য ভাষায় মা-বাবাকে গালিগালাজ করে। এই বিষয়টি ঘটনার সময় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কামাল ভাই ও হৃদয় ভাই আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং বিষয়টি তাদের অবগত করার পরেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।”
খেলায় অংশগ্রহণকারী ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী ইফতেখার ইসলাম বলেন, “পরশু যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ভিসি স্যার সমাধান করে দেন। এরপরেও তিনি কেমনে আমাদের মার্ডার করার হুমকি দেয়। এর পরে আবার ম্যাচ চলাকালীন সময়ে তিনি ম্যাচে আম্পায়ার থাকা অবস্থায় উনি কীভাবে ম্যাচের ইন্টারনাল বিষয়ে হাতে লাঠি নিয়ে মারতে আসার মতো দুঃসাহস দেখায়। আম্পায়ার অর্থাৎ শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যক্তি যিনি ছিলেন তিনি কেমনে ঐ বিষয়গুলো প্রতিহত না করে এগুলোকে প্রশ্রয় দেন। ঐ ব্যক্তি আগের ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচেও আমি হাতে মারাত্মকভাবে ব্যথা পাওয়ার পরেও হাতে ড্রেসিং করে না দিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার মতো দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রথমত আমাদের ইফতেখার ভাইয়ের বল নিয়ে মূলত সমস্যা হয়েছিল। উনার বল করতে হলে হাত ভাঙে, এটা নিয়ে। ম্যানেজমেন্টের ভাইয়ারা বলতেছিল আজকে যা সিদ্ধান্ত নেবে আম্পায়ার নেবে। তখন ট্যুরিজমের এক ভাই বলতেছিল সম্ভবত সাঈদ ভাই হবে, আজকে কিছু হলে মারামারি হবে আর গালি দিয়েছে। কাকে গালি দিয়েছে আমি খেয়াল করি নাই, তখন একজন ডিফেন্ড করতে গিয়েছিল উনাকে ও গালি দিয়েছে। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের কামাল ভাই ও আম্পায়ার হৃদয় ভাই ছিল, উনারা কিছু বলে নাই।”
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. ফখরুদ্দিন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য আমরা শুনেছি। কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে, তবে বিষয়টি এখনও যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। তাই এখনই কাউকে দায়ী না করে, সব তথ্য ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



























