শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ,শতাধিক

নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ,শতাধিক
ছবিঃ সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘে ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ থেকে শতাধিক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে হলিউড অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন এবং ‘হ্যাকস’ সিরিজের অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডারও রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহুর বক্তব্য দেওয়ার আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ ‘থেলমা অ্যান্ড লুইস’খ্যাত অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় বলে এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়।

‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ থেকে হান্না আইনবাইন্ডারকেও আটক করা হয়। ইহুদি সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো’ এবং ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক মুখপাত্র জানান, অনুমোদনহীন একটি বিক্ষোভের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিক্ষোভকারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থল অবরোধ করে রেখেছিলেন। পুলিশের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সদস্যরা কয়েক দফা বিক্ষোভকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারা নির্দেশ অমান্য করে অবস্থান চালিয়ে গেলে কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে আটক ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি পুলিশ।

অন্যদিকে আয়োজক ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, কর্মসূচি থেকে ১০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ৪০০ জনের বেশি মানুষ এতে অংশ নেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল গাজায় যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ করা।

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময়েও প্রতিবাদ

বিক্ষোভের পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় প্রতিবাদ দেখা যায়। তিনি বক্তব্য শুরু করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সমালোচক বিভিন্ন দেশ ও মিত্রদের সমালোচনা করেন। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সেরও সমালোচনা করেন তিনি। দেশ দুটি সম্প্রতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে। নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলকে ঔপনিবেশিকতার জন্য অভিযুক্ত করা হচ্ছে, অথচ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোই ‘ঔপনিবেশিকতা’ শব্দটির সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত।

গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে সুসান সারান্ডনের প্রকাশ্য অবস্থান নতুন নয়। চলতি মাসে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিকদের তিনি জানান, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানের কারণে পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সারান্ডনের দাবি, সম্প্রতি তার কয়েকটি সিনেমার কাজ বাতিল হয়েছে এবং কিছু এজেন্সি এখনও অন্যদের তাকে নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’, ‘ডেড ম্যান ওয়াকিং’ ও ‘দ্য উইচেস অব ইস্টউইক’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়ে আসছেন।

জনপ্রিয়