শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পেজেশকিয়ান

ইরান শান্তি চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অবিশ্বাস’ এখনও রয়েছ

ইরান শান্তি চায়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অবিশ্বাস’ এখনও রয়েছ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বিরোধের অবসানে ইরান এখনও আলোচনায় আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, দুই পক্ষ পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে যেসব প্রতিশ্রুতিতে পৌঁছেছে, উভয়কেই সেগুলো মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করতে হবে যে, ইরানের সরকার ও প্রশাসনকে উৎখাতের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

ইরানের অবস্থান বোঝার জন্য মার্কিন নাগরিকদের নিজেদের পরিস্থিতি কল্পনা করার আহ্বান জানান তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, কেউ যদি এসে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করে এবং এরপর দুই পক্ষের সম্মত হওয়া বিষয়গুলোও বাস্তবায়ন না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হতো—সেটিও ভাবা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতির সমাধান সহজ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে বিরোধের সমাধান চায় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানের প্রশাসনকে অকার্যকর বা পতন ঘটানো। ইসরায়েলের বিভিন্ন বক্তব্যেও এ ধরনের উদ্দেশ্যের প্রতিফলন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই ইরানের সঙ্গে সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হয়, তাহলে আলোচনার সময় কেন ইরানে সামরিক হামলা চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য, বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং প্রতিদিন নতুন নতুন চাপ প্রয়োগের পর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।

নিষেধাজ্ঞা, হুমকি ও সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন লিখিত প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্র আবার আলোচনায় ফিরলে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

তবে এসব উত্তেজনার মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। শুক্রবার সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এখনও সময় ও সুযোগ রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সহযোগিতা বন্ধ করে, শিশু ও বেসামরিক মানুষ হত্যার পাশাপাশি বিজ্ঞানী, হাসপাতাল ও স্কুলে হামলা বন্ধে ভূমিকা নেয় এবং ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে অবস্থান নেয়, তাহলেই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। এর পাল্টা জবাবে তেহরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা ইসরায়েলি ও মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালায়।

জুনের মাঝামাঝি সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তী আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকে।

এদিকে দুই দেশের বিরোধে বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এ ইস্যুতেই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনা থমকে আছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জনপ্রিয়