গোপনে আবুধাবি সফর করলেন নেতানিয়াহু
গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে আমিরাতি প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।
ইসরায়েলি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোও নেতানিয়াহুর এই অঘোষিত সফরের খবর প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ ও সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নেতানিয়াহু রোববার সকালে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে আবুধাবির উদ্দেশে রওয়ানা হন। সেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং দিনের বেশিরভাগ সময় আমিরাতে অবস্থান করেন। পরে তিনি ইসরায়েলে ফিরে যান।
তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
নেতানিয়াহুর এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আওতায় দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বেড়েছে। তবে ফিলিস্তিন ইস্যু ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের কারণে এই সম্পর্কের ওপর চাপও তৈরি হয়েছে।
নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে একটি পুরোনো সতর্কবার্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের বড় ধরনের একটি অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই সতর্কবার্তা ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তবে নেতানিয়াহু এই দাবি অস্বীকার করেছেন।



























