সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮

রুশ হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৮
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় এক দিনে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। রোববারের এসব হামলার এক দিন আগেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল মস্কো। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৯০০টি ড্রোন, বিমান থেকে নিক্ষেপ করা বোমা ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

এ সময় কিয়েভে রুশ হামলার তীব্রতাও বেড়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, সামনে কঠিন শীতের প্রস্তুতি চলার মধ্যেই রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি জানান, উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমিতে রাশিয়ার হামলায় একটি শিশু-কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীও রয়েছে।

জেলেনস্কি জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় একজন পুরুষ নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ওডেসা অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৃষ্ণসাগরসংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ‘বড় ধরনের হামলায়’ আরও একজন নিহত হয়েছেন।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাজধানীতে এক নারী ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কিয়েভের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শত্রুপক্ষ কিয়েভ অঞ্চলে হামলাকারী ড্রোন দিয়ে নিরলস হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।’

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় ১৬টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২টি বাড়ি, একটি গুদাম এবং একটি উৎপাদনকেন্দ্র।

ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ কিপের জানিয়েছেন, রুশ হামলায় আবাসিক ভবন, একটি দোকান, একটি হোটেল, একটি চিকিৎসাকেন্দ্র এবং একটি শস্যগুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ২ হাজার ২০০টির বেশি হামলাকারী ড্রোন, প্রায় ১ হাজার ৬৫০টি বিমানবোমা এবং বিভিন্ন ধরনের ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকার দুটি কিন্ডারগার্টেন, দুটি স্কুল, আবাসিক ভবনসহ অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামো।

পরে দেওয়া এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া যদি সত্যিই যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিত—যেমনটি তারা বিশেষ করে মার্কিন আলোচকদের কাছে দাবি করছে—তাহলে ‘শাহেদ ড্রোন দিয়ে এ ধরনের সন্ত্রাস চালানো হতো না।’

এদিকে, মস্কোয় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভে কিয়েভস্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার এবং ওমেগা টেলিকম নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টারে হামলা চালিয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে আসছিল।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়