সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩৩, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীর তথ্য ফাঁস করে বিপাকে জেলেনস্কি

উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীর তথ্য ফাঁস করে বিপাকে জেলেনস্কি
ছবিঃ সংগৃহীত

দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর তথ্য প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি গোপন রাখার সমঝোতা ছিল বলে দাবি করে ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর। দপ্তরের জনসংযোগবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব সিয়ং গি হং বলেন, ইউক্রেনের এভাবে একতরফাভাবে যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ করা নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট। পরে ইউক্রেন বিষয়টি গোপন রাখার কোনো সমঝোতা ছিল না বলে দাবি করায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

এর আগে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় আটক দুই উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তর নিয়ে ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার আলোচনা হয়েছিল। তখন বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল কিয়েভ। তাদের আশঙ্কা ছিল, এ তথ্য প্রকাশ্যে এলে ইউক্রেনের ভেতরে সমালোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়ার হাতে থাকা ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দীদের সঙ্গে এই দুই বন্দীর বিনিময়ের সুযোগ নষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠতে পারে।

যুদ্ধবন্দী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি গোপন রাখতে সম্মত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে আগাম আলোচনা না করেই জাতিসংঘে তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিউল। পরে গোপন রাখার সমঝোতা অস্বীকার করায় ইউক্রেনের ওপর আস্থা কমেছে বলেও জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং গত বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সম্ভাব্য নানা দিক বিবেচনা করে যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের তথ্য গোপন রাখাই ভালো ছিল। এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

এর জবাবে জেলেনস্কির সহযোগী দিমিত্রো লিতভিন সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে জানায়। তাই দুই সেনাকে গোপনে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর বিষয়টি স্বাভাবিক হতো না। তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি অনেক বড় এবং এর সঙ্গে আরও অনেক বিষয় জড়িত। তবে ইউক্রেন সেখান থেকে শুধু দুই সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর তথ্যই প্রকাশ করেছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেন ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে আটক করে। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া উত্তর কোরীয় সেনাদের মধ্যে তারাই প্রথম জীবিত অবস্থায় আটক হন।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হিসাবে, ২০২৪ সাল থেকে রাশিয়াকে সহায়তা করতে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাদের বেশির ভাগই কুরস্ক সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। দক্ষিণ কোরিয়া, ইউক্রেন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের হিসাবে, ওই যুদ্ধে ছয় হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছেন।

জনপ্রিয়