মমতার পায়ের চোট ‘ভুয়া’ দাবি শুভেন্দু অধিকারীর
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে যে চোট লেগেছিল, তা ‘ভুয়া’। এ দাবির পক্ষে তার কাছে নথিপত্র রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) নন্দীগ্রামের আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের পক্ষে প্রচারে গিয়ে বিরুলিয়া বাজারে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হলে প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন।
২০২১ সালের মার্চে মমতা যে এলাকায় আহত হয়েছিলেন, সেই বিরুলিয়া বাজারে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের আওতাধীন হওয়ায় হাসপাতাল কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলেও জানান।
শুভেন্দুর দাবি, রোগীকে এক্স-রে প্লেট দেওয়া হলেও প্রতিবেদনের একটি কপি হাসপাতালে সংরক্ষিত থাকে। তার কাছে সেই নথি রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, মমতা তখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এবং তার চিকিৎসকেরা ওই প্রতিবেদনে ‘কোনো ফ্র্যাকচার নেই’ লিখেছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মমতার চলন্ত গাড়ির খোলা দরজা রাস্তার পাশের একটি লোহার খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে তার ওপর ফিরে আসে। এতে তার পায়ে সামান্য চোট লাগে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। পরে ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ করা হয় এবং ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা নন্দীগ্রামের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, তাকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করা হলে তিনি প্রমাণ প্রকাশ করবেন। তার ভাষ্য, ওই ঘটনার পর সিআইডি স্থানীয় নেতাদের বারবার তলব করেছিল এবং বিষয়টি তিনি ভুলে যাননি।
২০২১ সালের ১০ মার্চ নির্বাচনী প্রচারের সময় নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ার রেয়াপাড়া এলাকায় আহত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার পর প্রথমে তিনি বলেছিলেন, ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে গাড়ির খোলা দরজার দিকে ফেলে দেয়। এতে তার বাঁ পায়ে জোরে আঘাত লাগে।
পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মমতা বলেন, সমর্থকদের অভিবাদন জানানোর সময় ভিড় তার গাড়ির ওপর চাপ সৃষ্টি করলে তার পা পিষে যায়। চিকিৎসকেরা তার বাঁ গোড়ালি ও পায়ে হাড় ও লিগামেন্টে গুরুতর আঘাতের কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ডান কাঁধ, বাহু, ঘাড় ও কোমরেও ব্যথার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুই দিন চিকিৎসার পর ১২ মার্চ বাঁ পায়ে কাস্ট বা প্লাস্টার নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মমতা। এরপর তিনি হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন।
তবে ২০২১ সালে নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া বিশেষ পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে মমতার ওপর হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।



























