বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৫, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৮

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে নিহত ২৮
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। 

বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু।

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশের প্রিলুকি জেলায়। সেখানে একটি আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়।

প্রবল বিস্ফোরণে পাঁচতলা ভবনটির একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ভবনের জানালার কাচ ছিটকে পড়ে চারদিকে। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একে একে মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। ভবনটির অর্ধেক অংশ পরিণত হয় পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। সন্ধ্যার দিকে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রিলুকির ওই আবাসিক ভবনে হামলায় মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। জেলেনস্কি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন শিশু রয়েছে।

রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক শহর ও সাধারণ মানুষের জীবনকে লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের মানুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে ৪০ বছর বয়সী ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ওলেনা সায়ুন বলেন, বিস্ফোরণের সময় তারা বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের ধাক্কায় ঘরের জানালার কাচ উড়ে যায়। সন্তানকে শরীর দিয়ে আড়াল করতে গিয়ে তিনি ও তার স্বামী দুজনেই কেটে আহত হন।

ওলেনা বলেন, হামলার সময় তাদের সন্তান প্রচণ্ড ভয় পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তারা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন। তখন পুরো অ্যাপার্টমেন্টের বিভিন্ন জিনিস তছনছ হয়ে যাচ্ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে হামলা শুরু হয়। এর আগের দিন মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার সম্ভাব্য একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো হামলার লক্ষ্য হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

শীতকাল সামনে রেখে ইউক্রেনে হামলার তীব্রতা বাড়ছে। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছে। আতঙ্কিত অনেক বাসিন্দা রাত কাটাতে ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন।

কিয়েভের একটি সাবওয়ে স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো বলেন, তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সেখানে চলে এসেছেন। তার ভাষ্য, পুরো কিয়েভ এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। কর্মস্থলে থাকাকালেও সহকর্মীদের গ্রুপ চ্যাট ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সতর্ক থাকার বার্তা আসছিল।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দেশটির দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়।

জেলেনস্কি এ হামলাকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা সংঘাতের অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে ইউক্রেনের জন্য নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি বলেও জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট।

প্রিলুকির ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছাকাছি বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সী অনলাইন মার্কেটিংকর্মী ইউলিয়া শামরাই বলেন, এ হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়া কী ধরনের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে চেয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়