শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪১, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

শ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়
ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে ত্রুটির কারণে শ্রীলঙ্কায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিদ্যুৎব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন এলাকায় ২ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়।

রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ইডিএল জানিয়েছে, পুরো বিদ্যুৎ গ্রিডে দেখা দেওয়া ত্রুটি মেরামতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। তবে কখন নাগাদ সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী অনুরা করুণাতিলাকা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজে সহায়তা করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা গ্রাহকদের সেগুলো বিচ্ছিন্ন রাখার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কায় এ ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতেও একইভাবে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে পড়েছিল। সেদিন আকাশ পরিষ্কার থাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেড়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছিল।

শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৩ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। অথচ দিনের বেলায় দেশটিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে কর ছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে দেশটির সরকার। ফলে অনেক গ্রাহক নিজেদের বাড়ি ও ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করছেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রিও করছেন তারা।

তবে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন দ্রুত বাড়লেও জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুতের সরবরাহ ও ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরকার আগামী তিন বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সক্ষমতা প্রায় ৩৮৮ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উন্নত করা না গেলে এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: চ্যানেল নিউজ এশিয়া

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়