নারী সেজে হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইল, হায়দ্রাবাদে ১ যুবক গ্রেপ্তার
ভারতের তেলেঙ্গনার হায়দ্রাবাদে হানিট্র্যাপ পরিচালনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী সেজে বিভিন্ন ব্যক্তিকে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার দায়ে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই যুবক নারী পরিচয়ে সখ্যতা গড়ে পরবর্তীতে অর্থ না দিলে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম কোনদাবাথথুলা পবন কুমার। তিনি হায়দারাবাদ শহরের কুকাটপল্লী এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পবন কুমারের ইনস্টাগ্রামে ১৩টি ও ফেসবুকে ১৪টি ফেইক আইডি রয়েছে। সেগুলোতে কলকাতার এক নারীর ছবি ব্যবহার করা হতো। পবন কুমার নিয়মিতই এসব আইডি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে নারী পরিচয়ে যোগাযোগ করতেন। অনলাইনে তাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়তেন এবং পরে চ্যাটিং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বিষয়ের দিকে গড়াতো।
তদন্তকারীরা জানান, কথার ফাঁদে ফেলে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে তাদের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও আদায় করতেন।
চরমিনার জোনের ডিটিপি কিরণ প্রভাকর বলেন, এক পর্যায়ে তিনি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে অনলাইনে ওই নারীর ভাই হিসেবে যোগাযোগ করতেন এবং তাদের ব্যক্তিগত ছবিগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার কিংবা পুলিশে অভিযোগ দেওয়ার ভয় দেখাতেন। এতে করে ওইসব ব্যক্তির কাছ থেকে তার টাকা আদায় করার সুবিধা হতো।
পুলিশের ধারণা, এইসব সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে অভিযুক্ত তিন থেকে চার বছর সময়ের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে ৮২ জন তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, অধ্যাপক, বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তাসহ নানা পেশার মানুষ রয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে তেলেঙ্গনার বাইরের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে রয়েছেন ২৪ জন ও ভারতের বাইরে থাকেন এমন আছেন নয়জন। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহপাঠীর কাছ থেকেও ব্যক্তিগত ছবি/ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চার লাখ টাকা আদায় করেছিলেন অভিযুক্ত যুবক।
ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তিনি এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ১৮ লাখ রুপি আদায় করেছেন বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। এর বাইরে তিনি আরেক ব্যক্তিকে ব্যবসায় বিনিয়োগে উচ্চ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৭ লাখ ১৬ হাজার রুপি আদায় করেছেন।
পুলিশের অভিযানে তার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। এ সময় তার ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ও তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা।



























