শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:০২, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, কারাগারে আবু বকর

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, কারাগারে আবু বকর
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার দায়ে গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার একটি আদালত তাকে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান আবু বকরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির সময় গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম একটি ফেসবুক পোস্ট শনাক্ত করে।

‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক গোষ্ঠীতে ‘মাইশা আঞ্জুম’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টটি করা হয়েছিল। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসের ছবি ছিল।

ওই ছবির নিচে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়, “ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো”।

মন্তব্যটি নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ডিবি পুলিশ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে রাজশাহীর পবা থানার ঘোল হাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিক ও তার বাবা মো. আয়নাল হককে আটক করে।

অভিযানের সময় আবু বকর সিদ্দিকের কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের ব্যবহৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্যটি করার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে মামলার নথিতে বলা হয়েছে।

তবে তার বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মন্তব্য বা সংশ্লিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে প্রাথমিক যাচাইয়ে উঠে আসে। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, দেশের অখণ্ডতা, সংহতি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়ার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানতে আবু বকর সিদ্দিককে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

তদন্ত শেষ হওয়ার আগে জামিনে মুক্তি পেলে তিনি আলামত নষ্ট করতে পারেন বা আত্মগোপন করতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তাকে কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়।

এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন।

জনপ্রিয়