মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৪০, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্যাবল ও ব্যাটারিকে টার্গেট করে মোবাইল টাওয়ারে চুরি বেড়েছে

ক্যাবল ও ব্যাটারিকে টার্গেট করে মোবাইল টাওয়ারে চুরি বেড়েছে
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল টাওয়ার ও নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে ক্যাবল, ব্যাটারি, রিমোট রেডিও ইউনিট (আরআরইউ) ও নেটওয়ার্ক কার্ড চুরির ঘটনা বেড়েছে। গত ২০ মাসে চার মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে প্রায় ১৬ হাজার মিটার পাওয়ার ক্যাবল ও ২ হাজারের বেশি ব্যাটারি চুরি হয়েছে।

এসব সরঞ্জাম চুরির কারণে বিভিন্ন এলাকায় একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা, পাশাপাশি অপারেটরদের অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

মোবাইল টেলিকম অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) এসব তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) দেওয়া এক চিঠিতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অ্যামটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকারের সই করা চিঠিটি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, লালবাগ ও আশপাশের নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক স্থাপনায় চুরির ঘটনা ঘটছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এসব চুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগের তার, আরআরইউ, নেটওয়ার্ক কার্ড ও ব্যাটারি।

অ্যামটবের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্যাবল ও ব্যাটারি চুরি হয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের। এ সময়ে অপারেটরটির ৭ হাজার ৪৪২ মিটার ক্যাবল, ৫৮টি আরআরইউ, ২২টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ৭৯৩টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চুরি হয়েছিল ৬ হাজার ৭৪৯ মিটার ক্যাবল, ৭৬টি আরআরইউ, ১৮টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ৪৫২টি ব্যাটারি।

চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গ্রামীণফোনের ১৫৩ মিটার ক্যাবল, ৫১টি আরআরইউ, ৬টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ১২৩টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এসব সরঞ্জাম চুরির সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫০৭ মিটার ক্যাবল, ৩৩টি আরআরইউ, ৭৫টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ২৭টি ব্যাটারি।

রবি আজিয়াটার চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ২১১ মিটার ক্যাবল, ১৫৭টি আরআরইউ, ১০টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ২৭৮টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চুরি হয়েছিল ৪১৭ মিটার ক্যাবল, ৪৪টি আরআরইউ, ৪৮টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ২৫৩টি ব্যাটারি।

বাংলালিংকের চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ১৮৯ মিটার ক্যাবল, ৪৮টি আরআরইউ, ৯টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ৫৩টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে চুরি হয়েছিল ২৯১ মিটার ক্যাবল, ৪১টি আরআরইউ, ২৯টি নেটওয়ার্ক কার্ড ও ২৪টি ব্যাটারি।

অ্যামটব বলেছে, এসব সরঞ্জাম চুরির ফলে স্থানীয়ভাবে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে জরুরি যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে চুরি হওয়া সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে অপারেটরদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

সংগঠনটি জানায়, গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তায় অপারেটররা বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এসব সম্পদ রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধ অপরাধ ঠেকাতে দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসির হস্তক্ষেপ চেয়েছে অ্যামটব। চিঠির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি ও ক্যাবল চুরি বন্ধে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, চুরি অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, মোবাইল টাওয়ার শুধু কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নয়, এটি দেশের অত্যাবশ্যকীয় যোগাযোগ অবকাঠামোর অংশ। ব্যাংকিং, মোবাইল আর্থিক সেবা, ই-কমার্স, সরকারি-বেসরকারি ডিজিটাল সেবা ও জরুরি যোগাযোগসহ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর টাওয়ার সচল রাখতে ব্যাকআপ ব্যাটারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব ব্যাটারি চুরি হলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় টাওয়ার দ্রুত অচল হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে কেবল চুরি হলে নেটওয়ার্ক সেবা সরাসরি ব্যাহত হয়।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল অপারেটর ও টাওয়ার কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগে ৪৫ হাজারের বেশি নেটওয়ার্ক টাওয়ার সচল রয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়