সোহরাওয়ার্দীতে আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে ’পানির ফোয়ারা’
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থানে প্রস্তাবিত ভাস্কর্য নির্মাণের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক থ্রিডি উপস্থাপনার বিষয়বস্তুতেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ৬ আগস্টের অগ্রগতি প্রতিবেদনে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন ও পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে ৭ মার্চের ভাষণের স্থান এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ওই দুই স্থানে নির্মাণাধীন অবকাঠামোতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এরপর ২০২৫ সালের মার্চে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই দুটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে না। এবার প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন করে সেখানে পানির ফোয়ারা স্থাপনের উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে।
নথিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় থানা নির্মাণের পাশাপাশি ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দুই স্থানে ভাস্কর্যের পরিবর্তে ওয়াটার ফাউন্টেন স্থাপন করা হবে। এ জন্য নকশা পরিমার্জনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৭ মার্চের ভাষণের ‘হলোগ্রাফিক থ্রিডি’ উপস্থাপনার বিষয়বস্তু পরিবর্তনের উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে রয়েছে।
ভাস্কর্যের পরিবর্তে ফোয়ারা স্থাপনের বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত সচিব হাসনা জাহান খানম এ বিষয়ে শাহজাহান মিয়ার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া আবার বিস্তারিত জানতে উপসচিব পলি করের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
মন্ত্রণালয়ের যে অগ্রগতি প্রতিবেদনে পানির ফোয়ারা স্থাপনের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে উপসচিব পলি করের স্বাক্ষর রয়েছে। যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকার কথা জানান। তবে নথিতে তার স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে থাকা প্রণব কুমার সাহার সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় ৩৯৭ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ।



























