বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫২, ১ অক্টোবর ২০২৬

গোয়েন্দা তথ্যের পর নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গোয়েন্দা তথ্যের পর নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ছবি: সংগৃহীত

প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেই মানা হচ্ছে না প্রবেশের বিদ্যমান নিয়ম। অবাধে ঢুকে পড়ছেন অনেকে, আর প্রবেশ পাশ ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বড় ধরনের গলদ। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসায় সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরপরই সচিবালয়ে কোনো দর্শনার্থী ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) ছাড়া প্রবেশ করতে পারবেন না বলে নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তারাও বেআইনিভাবে প্রবেশ পাশ ইস্যু করছেন। একাধিক গেট দিয়ে পুলিশ সদস্যরা দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন। কোনো কোনো সংসদ-সদস্য ৬-৭ জন নেতাকর্মী সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়ছেন কেপিআইভুক্ত এই স্থাপনায়। ২০২৪ সালের আন্দোলনের কিছু ছাত্রনেতা হুটহাট করে সচিবালয়ে ঢুকছেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন এবং তার নিরাপত্তার বিষয়টি কেউ আমলেই নিচ্ছেন না। গোয়েন্দা সংস্থার এমন প্রতিবেদনের পর নড়েচড়ে বসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. আব্দুস সাত্তার নিজে এসব অপকর্মের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা সব ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) সংগ্রহ করেছেন। নির্ধারিত এই সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে ইস্যু করা প্রবেশ পাশের ওটিপি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখার কাজও শুরু হয়েছে। এই নিরাপত্তা গলদ নিয়ে করণীয় নির্ধারণে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও।

গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে জাতীয় সংসদ-সদস্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে সংসদ-সদস্য এবং তার একান্ত সচিবের (পিএস) নামে পাশ থাকলেও তারা যখন সচিবালয়ে প্রবেশ করেন তখন গাড়ির ভেতরে ৬-৭ জনকে নিয়ে ঢোকেন। সচিবালয়ে প্রবেশ করে ওই গাড়ি আবার বাইরে পাঠান এবং ওই গাড়ি ভর্তি করে আবারও সচিবালয়ে প্রবেশ করে। পুলিশ সদস্যরা যাছাই করতে চাইলে তাদের ধমক দিয়ে কথা বলেন। সচিবালয়ে বিভিন্ন ভবনের লিফট ব্যবহারে তারা কোনো নিয়ম মানেন না। ঠেলাঠেলি করে লিফটে উঠেন। এতে অনেকে আগে থেকে লিফটের জন্য লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তি আর উঠতে পারেন না।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সচিবালয়ে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রবেশ পাশ বিক্রির তথ্য স্থান পেয়েছে। কিছু কর্মকর্তা সব সরকারের সময়ই এ কাজ করে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের কাছ থেকে পাশ ক্রয় করে সচিবালয়ে অবাধে প্রবেশ করে থাকেন। সচিবালয়ে প্রবেশে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উলটোদিকের গেট সাংবাদিকদের সুবিধার জন্য তৈরি করা হলেও সচরাচর সাংবাদিকদের ওই গেট দিয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বয়স্ক, অসুস্থ সাংবাদিকদের বৃষ্টির মধ্যে মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বাধ্য করেন পুলিশ সদস্যরা। অথচ সচিবালয়ের দালালরা বিনা পাশে ওই গেট দিয়ে প্রবেশ করছে অহরহ।

বিষয়টি স্বীকার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে জানান, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

জনপ্রিয়