বেতার বিতর্ক প্রতিযোগিতা আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে : তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ বেতারের বিতর্ক প্রতিযোগিতা দেশের বিভিন্ন জেলায় আঞ্চলিক পর্যায়ে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বুধবার রাজধানীতে বাংলাদেশ বেতার আয়োজিত ‘বেতার বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন, যুক্তি উপস্থাপন, তথ্য বিশ্লেষণ ও বক্তব্য প্রকাশের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে বিতর্ক যেন শুধুই তর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এতে ব্যবহৃত তথ্য অবশ্যই সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও জ্ঞানভিত্তিক হতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনা ও জ্ঞান অর্জন করতে হয়। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশায় নেতৃত্ব দেবে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু ভালো ফলাফল করলেই সফল হওয়া যায় না। খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা থাকা প্রয়োজন। কর্মজীবনে এসব কার্যক্রম একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বগুণ ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটায়।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাধুলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে অনেক উপজেলায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এবং এর বাইরেও দেশব্যাপী কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এসব উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করার কাজ করছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মেধা ও জ্ঞানচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। একই সঙ্গে তারা ভবিষ্যতে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, দিনের শেষে তারা বাংলাদেশের সন্তান। দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে তাদের কাজ করতে হবে।
‘বেতার বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়া সেন্ট যোসেফ স্কুল এবং রানার্সআপ সামসুল হক খান স্কুলকে অভিনন্দন জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
তিনি বলেন, অল্প বয়সেই শিক্ষার্থীরা যে সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।
অনুষ্ঠানে ফাইনাল বিতর্কের মডারেটর ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও প্রেস) মো. শাহ আলম বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
এর আগে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের সদস্যদের হাতে ট্রফি, সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।



























