শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০২, ৯ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজির বাজার কঠোর নজরদারিতে: চট্টগ্রাম ডিসি

এলপিজির বাজার কঠোর নজরদারিতে: চট্টগ্রাম ডিসি
ছবিঃ সংগৃহীত

এলপিজি গ্যাসের অবৈধ মজুতদারি, কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। আমদানিকারক থেকে শুরু করে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত সরবরাহের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেন, বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। কোনো পর্যায়ে গ্যাস মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক জানান, দেশে এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম। দেশের ২১টি মাদার প্ল্যান্টের মধ্যে সাতটি চট্টগ্রামে এবং বাকি ১৪টি মোংলায় অবস্থিত। চট্টগ্রামের প্ল্যান্টগুলোতে কোন প্রতিষ্ঠান কত পরিমাণ এলপিজি আমদানি করছে এবং সেই গ্যাস কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামে কার্যক্রম পরিচালনাকারী এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মাধ্যমে আমদানিকারকদের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমদানির পর কতটুকু গ্যাস পরিবেশকদের কাছে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে কী পরিমাণ খুচরা বাজারে পৌঁছাচ্ছে, তাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতা—সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে, যাতে কোনো পর্যায়ে অসৎ উদ্দেশ্যে গ্যাস আটকে রেখে সংকট সৃষ্টি কিংবা বেশি দামে বিক্রি করা না হয়।

এদিকে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে। নতুন মূল্য কার্যকরের পর ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করছে জেলা প্রশাসন।

ডিলারদের বিরুদ্ধে মূল্য কারসাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর আগে চট্টগ্রামের কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, কিছু ডিলার কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছেন। তবে নতুন মূল্য কার্যকরের পর এ ধরনের আর কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ না থাকলেও বাজার তদারকি বন্ধ করা হয়নি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক বলেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কাতার ও ওমানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এলপিজি আমদানিতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের চাহিদা অপরিবর্তিত রয়েছে।

জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৮ লাখ মেট্রিক টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি খাত থেকে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ শতাংশ। বাকি চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে প্রায় ১৯টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে চাপ তৈরি হলেও চট্টগ্রামের বাজারে এর সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য আমদানিকারক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি ও মূল্য কারসাজি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের অভিযান ও তদারকি চলবে।

জনপ্রিয়