রোববার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:২৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ধর্ষণে জন্ম নেয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র

ধর্ষণে জন্ম নেয়া সন্তানের ভরণপোষণ দেবে রাষ্ট্র
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজবাড়ীর পাংশায় বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় ফারুক হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী নারীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ওই নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানের বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক হোসেন পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আহম্মদ খার ছেলে। তবে আসামি জামিনে বের হওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছে।

আদালতের রায় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোছা. রেখা খাতুন একজন তালাকপ্রাপ্ত নারী। পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় ফারুক হোসেন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ৩০ মে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে খোকসা রেলস্টেশনসংলগ্ন নিজের এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যান ফারুক। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে প্রায় দুই মাস ওই বাসায় এবং পরবর্তী সময়ে ঢাকায় একটি বাসায় রেখে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন অভিযুক্ত।

একপর্যায়ে রেখা খাতুন গর্ভবতী হয়ে পড়েন। বিয়ের কাগজপত্র চাইলে ফারুক বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ২০১৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন রেখা। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে পাংশা থানায় মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

মামলার তদন্তে রেখা খাতুনের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি মেডিকেল পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়। পরে তিনি রাফিউল হোসেন নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তদন্ত শেষে ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রায়ে আদালত অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়