বার্লিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যোগ দেওয়া হচ্ছে না ইউনূসের
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বার্লিনে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সফর বাতিল করেছেন।
সম্মেলনে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ঘিরে ইউরোপপ্রবাসীদের কয়েকটি সংগঠনের আপত্তির মধ্যে তার এই সিদ্ধান্ত জানা গেল। তবে আয়োজকরা বলেছেন, স্বাস্থ্যগত কারণে সফর বাতিল করেছেন নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস।
সম্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণের বিষয়টি আয়োজকদের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছিল। তবে এখন আর বক্তার তালিকায় তার নাম নেই।
রোববার শুরু হওয়া এবারের ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট’-এর প্রতিপাদ্য ‘সংকট থেকে স্থিতিস্থাপকতা: স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভাবন।’ বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা মঙ্গলবার পর্যন্ত এ সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংকট ও উত্তরণের উপায় নিয়ে তারা আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমানও একটি সেশনে অংশ নেবেন বলে সম্মেলনের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের আরেকটি সেশনে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওয়েবসাইটে বক্তা হিসেবে তার নামও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের কমিউনিকেশন টিমের পক্ষে আনা স্টোরমার এক ইমেইলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, স্বাস্থ্যগত কারণে মুহাম্মদ ইউনূস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ঢাকায় ইউনূস সেন্টারে যোগাযোগ করে তাদের সাড়া পায়নি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এদিকে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিন সপ্তাহ আগে ইউরোপভিত্তিক পাঁচটি সংগঠন এ সম্মেলনে ইউনূসের অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছিল।
সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক ও ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স এ বিষয়ে একটি পিটিশনও দাখিল করেছিল।
সেখানে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা প্রয়োজন। তার আগে মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মেলনের বিশেষ বক্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।



























