লালমনিরহাটে দুর্গামন্দির পরিদর্শন করলেন ত্রাণমন্ত্রী
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি আধুনিক, মানবিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট পৌরসভার স্টেডিয়ামপাড়ার শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ দুর্গামন্দির পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব আনন্দমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন সরকার গঠনের পর এবারের দুর্গাপূজা প্রথম উৎসব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ উৎসব আগের চেয়ে আরও আনন্দমুখর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী প্রায় ৩৫ হাজার ৫০০টি মন্দিরে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও উৎসব উদযাপনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে থাকা সরকারের দায়িত্ব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে তিনি নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজায় অংশ নিতে পারছেন।
পূজা উপলক্ষে শহরের বাজারগুলোতে কেনা-বেচা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা তাকে জানিয়েছেন, এবার কেনাবেচা ভালো হচ্ছে এবং ব্যবসা পরিচালনায় তারা কোনো সমস্যার কথা জানাননি।
এ সময় জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায়, পৌরসভা গোশালা সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শিবেন্দ্রনাথ রায়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা সভাপতি গুরুচরণ রায়সহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



























