মেসির বিদায়ে হৃদয়স্পর্শী বার্তা নেইমারের
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ফুটবল দ্বৈরথ বিশ্বজুড়ে পরিচিত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে। তবে মাঠের সেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের বন্ধুত্ব বরাবরই আলাদা এক গল্প। এবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচের আগে বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার।
ইনস্টাগ্রামে মেসির সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন সময়ের ছবি প্রকাশ করে নেইমার লিখেছেন, ফুটবলপ্রেমীরা বছরের পর বছর মেসির অসাধারণ ফুটবল উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে তুলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা ফুটবল ভালোবাসে, তারা এত বছর ধরে তোমাকে ঠিকমতো উপভোগ করেছে। আজ তোমার দেশ ও জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। আশা করি প্রতিটি সেকেন্ড তুমি দারুণভাবে উপভোগ করবে এবং আজ যত ভালোবাসা ও সম্মান পাবে, তা তোমার হৃদয় ভরিয়ে দেবে।’
মেসির ফুটবলীয় অবদানের কথা উল্লেখ করে নেইমার আরও লেখেন, ‘শুধু আর্জেন্টিনা তোমায় ধন্যবাদ জানাচ্ছে না; ফুটবলের জন্য যা কিছু তুমি করেছ, তার জন্য গোটা বিশ্ব আজ তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’
বন্ধুর বিপক্ষে খেলাকে যেমন বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেছেন নেইমার, তেমনি মেসির সঙ্গে একই দলে থেকে ইতিহাস গড়ার স্মৃতিকেও তিনি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। নেইমারের ভাষায়, ‘তোমার বিপক্ষে মাঠে লড়তে পারাটা যেমন আমার জন্য সম্মানের ছিল, তেমনই তোমার পাশে ইতিহাস গড়াটা ছিল আরও বড় এক প্রাপ্তি। ধন্যবাদ, লিওনেল মেসি।’
মেসি ও নেইমারের বন্ধুত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় বার্সেলোনায়। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত একই ক্লাবে খেলেছেন তারা। লুইস সুয়ারেজকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে ওঠা বার্সেলোনার ভয়ংকর আক্রমণভাগে এই দুই তারকার জুটি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে হয়ে উঠেছিল অন্যতম আকর্ষণ। সেই সময় বার্সেলোনা একের পর এক সাফল্য পেলেও ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় ছিল তাদের সাফল্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলোর একটি।
বার্সেলোনা অধ্যায়ের পর ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পিএসজির জার্সিতেও আবার সতীর্থ হিসেবে খেলেছেন মেসি ও নেইমার। ক্লাব ফুটবলে একসঙ্গে পথচলার পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়ে তাদের লড়াইও কম স্মরণীয় নয়।
এই দুই তারকার মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচগুলোর একটি ছিল ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল। মারাকানার সেই ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিলেন মেসি। ম্যাচে হারলেও নেইমারের আচরণে ফুটে উঠেছিল বন্ধুত্বের গভীরতা। নিজের দলের পরাজয়ের কষ্ট পাশে সরিয়ে রেখে ম্যাচ শেষে মেসিকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন তিনি।
চার বছর পর মেসির জাতীয় দলের শেষ ম্যাচকে সামনে রেখে সেই বন্ধুত্বের কথাই যেন আবারও মনে করিয়ে দিলেন নেইমার। মাঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, মেসি-নেইমারের বন্ধুত্ব যে তার অনেক ঊর্ধ্বে—নেইমারের আবেগঘন বার্তায় সেটিই আবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



























