মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩:০৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চকবাজারে মার্কেটে আগুন, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে

চকবাজারে মার্কেটে আগুন, সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে
ছবি: সংগৃহীত

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটের একটি দোকানে লাগা আগুন সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আগুন নেভাতে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ সময় মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। আগুনের তীব্রতা কমে এলেও ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। আগুনের উৎস শনাক্তে কাজ করছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।

সিরাজুম মুনিরা জামে মসজিদের বিপরীত পাশে অবস্থিত মার্কেটটিতে আগুন লাগে। এম এম লোদারের খোরশেদ আলম জানান, ভবনটির ছয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পরে সাততলায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ছয় ও সাততলায় থাকা সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তিনি জানান, ১০ তলা ভবনটির প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন দোকান ও শোরুম রয়েছে। পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় গুদাম হিসেবে।

ভবনটির নিচতলায় কসমেটিকসের দোকান রয়েছে ব্যবসায়ী সাকলাইন নাদিমের। তিনি বলেন, তার দোকানের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ছয়তলায় থাকা গুদামে আগুন লেগেছে। এ মুহূর্তে ভবনের ভেতরের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

সাকলাইন নাদিম জানান, ছয় ও সাততলার গুদামগুলোতে কমবেশি কসমেটিকস, লেদারের ব্যাগ, লাইটার, চশমা ও স্টেশনারি পণ্য মজুত ছিল।

আগুনের শিখা বাইরে থেকে দেখা না গেলেও ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভানোর পাশাপাশি আগুনের উৎস শনাক্তের চেষ্টা করছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

সাকলাইন নাদিম বলেন, বিকেল ৫টার দিকে তিনি মার্কেটে আগুন লাগার খবর পান। পরে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। তার ধারণা, আসরের নামাজের পরপরই আগুন লাগে। এরপর ছয়তলার গুদামে থাকা কর্মীরা নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তাতে ব্যর্থ হয়ে পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন তারা।

ভবনটির একটি দোকানের কর্মী রুবেল বলেন, বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তারা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে তখন শুধু ধোঁয়া বের হচ্ছিল। পরে তাদের মধ্য থেকে একজন ফায়ার সার্ভিসে ফোন করেন।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো রওনা হলেও চকবাজারের যানজট ও মানুষের ভিড় পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। প্রথমে একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে গাড়িতে থাকা পানি দিয়ে আগুন পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। ছয়তলায় পানি পৌঁছানোর পরই গাড়ির পানি শেষ হয়ে যায়।

পরে পানির উৎস খুঁজতে শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আশপাশে পানির উৎস না পেয়ে পাশের সিরাজুম মুনিরা জামে মসজিদ থেকে মোটরের সাহায্যে পানি সংগ্রহ করেন তারা। সেই পানি দিয়েই আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যান।

আদিল নামে এক যুবক বলেন, ঘটনাস্থলে পানির ব্যবস্থা না থাকায় আগুন নেভানোর জন্য মসজিদ থেকে পানি আনা হয়েছে।

আগুন লাগার পর চকবাজারের মার্কেটগুলো বন্ধ রাখা হয়। পুরো এলাকায় কেনাকাটা বন্ধ থাকলেও ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় কমেনি। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় আনসার ও পুলিশ সদস্যদের।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

জনপ্রিয়