রোববার ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:১১, ৭ জুন ২০২৬

দুই দেশের মাঝখানে ১০ প্রাণ, ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়েও নেই কোনো সমাধান

দুই দেশের মাঝখানে ১০ প্রাণ, ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়েও নেই কোনো সমাধান
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে এক হৃদয়বিদারক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টায় আটকে পড়া নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ প্রায় ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোররাতে সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয়। ফলে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেননি। অন্যদিকে বিএসএফও তাদের পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে তারা কার্যত দুই দেশের মাঝখানে আটকে পড়েন।

এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচেই কাটছে তাদের দিন-রাত। শুক্রবারের তীব্র রৌদ্রদাহের পর রাতভর বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যেও আশ্রয়হীন অবস্থায় থাকতে হয়েছে নারী ও শিশুদের। মানবিক এই দুর্দশা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঘরের ভেতরে থাকাও যেখানে কষ্টকর, সেখানে শিশু ও নারীদের নিয়ে সীমান্তে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তারা দ্রুত এ সংকটের সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান আসেনি। শনিবার (৬ জুন) পুনরায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিজিবি কোনো ধরনের পুশইন মেনে নেবে না। সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”

এদিকে মানবিক বিবেচনায় সীমান্তে আটকে থাকা এসব মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দুই রাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগই পারে অনিশ্চয়তায় প্রহর গোনা এই মানুষগুলোর দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

জনপ্রিয়