পাবনায় বিএনপি-ছাত্রদলের অফিসে গুলিবর্ষণ-অগ্নিসংযোগ

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুইগ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও মাদক কারবারি নিয়ে দ্বন্দ্বে স্থানীয় বিএনপি- ছাত্রদলের যৌথ কার্যালয় ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া জিয়া সাইবার ফোর্স নেতার বসতবাড়িতে লুটপাট করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে ওই এলাকার একজন মাদক কারবারিকে মাদকসহ জিয়া সাইবার ফোর্স ঈশ্বরদী উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি মালিথাসহ স্থানীয়রা আটক করে। এরপর এলাকাবাসী ও বিএনপির আরেকটি গ্রুপ পুলিশে দিতে বাধা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এটা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। এরই জের ধরে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদার বিএনপি নেতা পরিচয় দানকারী মো. নূর নবী, কাটা রতন, পলাশের নেতৃত্বে অফিস ভাঙচুর ও দুটি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগ করে।
এ সময় ৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর জিয়া সাইবার ফোর্স ঈশ্বরদী উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক রাব্বি মালিথার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। ঘটনার সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাব্বি মালিথা বলেন, এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পলাশ, নবী, রতন দীর্ঘদিন ধরে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। মাদক ব্যবসা করে এলাকার যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আটক করে সেদিন পুলিশে দিতে পারলে উপযুক্ত বিচার হতো। মাদক ব্যবসা বাধা দেওয়ায় আজ আমার অফিস ও বাড়িতে হামলা এবং লুটপাট চালিয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেন তিনি।
ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অ,স, ম আব্দুন নূর বলেন, মাদকের বিষয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দু’দিন আগে স্থানীয় লোকজন একজনকে মাদকসহ আটক করে ছেড়ে দেয়। মূলত এটার জের আছে আজকের ঘটনার মধ্যে। স্থানীয়দের খবরে জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। গুলির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সপ/আম