বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাসস

প্রকাশিত: ২০:২২, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে আসবে : প্রতিমন্ত্রী

এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুতের লোডশেডিং কমে আসবে : প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে ৩০০ বিধিতে দেয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে উৎপাদনে পিছিয়ে থাকা কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে আসবে। এর ফলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার সমন্বিত ও সমাধানমুখী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে খুব শিগগিরই পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, 'স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে গ্রীষ্মে আমাদের অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হচ্ছে। স্পষ্টত:ই এই সমস্যা একদিনের নয়। এই পুঞ্জীভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কিংবা কারো নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের সকলকে নিতে হচ্ছে। আর তাই বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে-কলমে অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সাথে সেটির গড়মিল রয়েছে।'

প্রতিমন্ত্রী জানান, গতকাল বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬,০০০ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি ১৪,১২৬.৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ আমাদেরকে ২,০৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হতে হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার একটি নীতি প্রথম থেকেই গ্রহণ করেছিল। ফসল ওঠার মৌসুমে কোনোভাবেই কৃষকেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং ফসলের ক্ষেতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল ও বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি নিশ্চিত করবার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

চলমান তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে এজন্য তিনি সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।

জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি ইতিবাচক ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ১০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠনের উদ্যোগকে তিনি 'জাতির জন্য নতুন পথের দিশা' হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ তথ্য-উপাত্তভিত্তিক এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে এবং সংসদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি জানান, কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেচের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এর ফলে কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকছে এবং খাদ্য উৎপাদনে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রাম-শহরের মধ্যে বৈষম্য কমাতে সরকার ভারসাম্যপূর্ণ বিদ্যুৎ বণ্টনের নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী শহরাঞ্চলেও সীমিত আকারে লোডশেডিং চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে গ্রামীণ কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পান। এতে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সহজ হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার কাজ করছে এবং ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার আওতায় এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের প্রত্যাশা রয়েছে। 

এ ছাড়া সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ