বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩৫, ২৮ জুলাই ২০২৬

লেখক-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগে ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ প্রকাশ

লেখক-সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগে ১০১ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে কয়েকজন সাংবাদিক, নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা-অভিনেত্রী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে একটি অজ্ঞাত এবং জনসমর্থনহীন সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন,  দেশের ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন, কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল এবং কবি ও কলামিস্ট মীর রবি।

গণমাধ্যমে পাঠানো ওই যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের আইনের আশ্রয় নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে সেই অধিকার কখনোই ব্যক্তি, শিল্পী বা সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা, পেশাগতভাবে হয়রানি করা কিংবা ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযোগের ভিত্তি, প্রমাণ ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করে জনপরিসরে এ ধরনের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে এতে সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাক্ষরকারীরা বলেন, শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশের জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক পূর্বশর্ত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সমালোচনা বা ভিন্নমতের কারণে শিল্পী, সাংবাদিক কিংবা নাগরিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযোগ ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করে এবং সমাজে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইন যেন ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক কিংবা প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো নাগরিককে অযৌক্তিক বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে পেশাগত ও সামাজিকভাবে হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন নবী, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি ও সাংবাদিক সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, শিশুসাহিত্যিক রহীম শাহ, অধ্যাপক ও লেখক ড. শামীম আহমেদ, অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ, কার্লটন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদ হাসান, কথাসাহিত্যিক ড. মুকিদ চৌধুরী, শিক্ষক-লেখক ড. প্রদীপ মাহবুব, লেখক ও গবেষক সুজাত মনসুর, শিক্ষক ও গবেষক ড. ফরিদ আহমেদ, শিশুসাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, কবি ও প্রকাশক আরিফ নজরুল, কবি ও সম্পাদক হাসানআল আব্দুল্লাহ, চিকিৎসক ডা. সাজিয়া আফরিন ও ডা. শঙ্খময় ঘোষ, কবি অনিকেত শামীম, সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলী চৌধুরী, কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. মাসুদ পথিক, সংগঠক স্বীকৃতি বড়ুয়া, বিজ্ঞান লেখক আবদুল গাফ্ফার রনি, সাংবাদিক আবু সালেহ রনি, জুয়েল রাজ, সাব্বির খান, মেহেদী হাসান, অসীম কুমার দেবনাথ, দস্তগীর জাহাঙ্গীর, মুহাইমিনুল ইসলাম, চন্দন সেনগুপ্ত ও সাকিব হাসানসহ সাহিত্য, সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি, শিক্ষা, আইন, চিকিৎসা, গবেষণা এবং বিভিন্ন পেশার মোট ১০১ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

জনপ্রিয়