সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবাদ পরিক্রমা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাদক প্রবেশের রুট চিহ্নিত করে বন্ধ করার ওপর জোর: ঢাকা জেলা পুলিশ

মাদক প্রবেশের রুট চিহ্নিত করে বন্ধ করার ওপর জোর: ঢাকা জেলা পুলিশ
ছবিঃ সংগৃহীত

মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে ঢাকা জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সম্প্রতি নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, মাদক থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের উৎপত্তি ঘটে। তাই মাদক ব্যবসা ও এর বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট, টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে বন্ধ করার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে।

শামীমা পারভীন বলেন, রাজনৈতিক চাপ বা অবৈধভাবে পুলিশকে ব্যবহারের অতীতে যে আলোচনা ছিল, সে অবস্থা এখন আর নেই। তিনি আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং বর্তমান সরকারের সময়ে পুলিশ তার মূল দায়িত্বের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পেরেছে। পুলিশের মূল কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। পুলিশ এখন সেই মূল কাজকে সামনে রেখে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অপরাধের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে পরিচিত বড় কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শামীমা পারভীন বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়তই মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। আমার নির্দেশনা রয়েছে, পুলিশের প্রত্যেকটি সদস্য, বিশেষ করে ডিবি ও থানা পর্যায়ে যেন মাদকের বিষয়ে বিশেষ ড্রাইভ দেয়।’

পুলিশ সুপার জানান, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে চেকপোস্ট, টহল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও বিশেষ অভিযান—সব কিছুকে সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। চেকপোস্ট থেকে শুরু করে পেট্রোলিং ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যেসব স্পটে মাদক বিক্রি হতো, সেগুলোর অনেকগুলো বন্ধ হয়েছে এবং মাদকের মূল কারবারের সঙ্গে জড়িত অনেককে ইতোমধ্যেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

শামীমা পারভীন বলেন, পুলিশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরাধের ধরন অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অভিযান পরিচালনা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা।

মাদকের সরবরাহ বন্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে মাদক বিক্রির স্থানগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি যেসব রুট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশ করে সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ‘বিশেষ করে যেসব রুট দিয়ে মাদক ঢুকছে, সেই রুটগুলো বন্ধ করতে হবে। মাদক যেন দেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

গণমাধ্যমেরও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, সাংবাদিকরা মাদকের বিস্তার, এর ক্ষতিকর প্রভাব ও মাদক প্রবেশের রুট সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরলে জনসচেতনতা বাড়বে।

ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শামীমা পারভীন বলেন, তিনি নিজেকে নারী পরিচয়ের চেয়ে একজন পেশাদার পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবেই দেখতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শামীমা পারভীনকে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করে। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা জেলা প্রথমবারের মতো একজন নারীকে পুলিশ সুপার হিসেবে পেয়েছে।

শামীমা পারভীন বলেন, সমাজে নারী হিসেবে কিছু বিষয় তো আছেই। কিন্তু এটাকে কোনো নেতিবাচক বিষয় হিসেবে পাইনি। বরং এটি আমাকে পজিটিভ অবস্থান দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, একজন নারী পুলিশ সুপারকে দেখে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা অনেক সময় নিজেদের সমস্যার কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি একটি ইতিবাচক দিক।

পুলিশ সুপার বলেন, জনগণের আস্থা পুলিশের জন্য বড় দায়িত্বও তৈরি করে। সেই আস্থা ধরে রাখতে পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা জরুরি। কোনো এলাকায় মাদক বিক্রি বা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে তথ্য দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

শামীমা পারভীন আরও বলেন, জনগণ সহযোগিতা করলে পুলিশের কাজ অনেক সহজ হয়। জনগণ পুলিশকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসলে, পুলিশও জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটিকে দৃঢ় করতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

মাদক প্রসঙ্গে শামীমা পারভীন বলেন, মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। তাই এর বিরুদ্ধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাদক থেকে অনেক অপরাধের উৎপত্তি হয়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। পুলিশ তার জায়গা থেকে কাজ করবে আর সমাজের প্রত্যেকটি অংশকে তার নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনগণ, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়