দরপত্রে কারসাজি, কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্তের তৈমুর আলম
গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকার ইলেকট্রিক্যাল–মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–৪-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমকে ঘিরে দরপত্রে প্রভাব বিস্তার, কমিশন বাণিজ্য, প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভিযোগপত্র, সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন মহলের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন একই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে তিনি একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের প্রকল্প পাইয়ে দেওয়া হতো। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি, অতিরিক্ত কাজ অনুমোদন এবং বিল দ্রুত ছাড় করে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ অপচয় হয়েছে এবং দপ্তরের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বদলি নীতিমালা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও মো. তৈমুর আলম দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনগুলোতে দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে প্রকল্প বণ্টন, দরপত্র ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রভাব ক্রমেই বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পারিবারিক প্রভাব ব্যবহারের বিষয়টি। কয়েকটি সূত্রের দাবি, তার ছোট ভাই অংকুর প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ঠিকাদারি কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পেয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঢাকার একটি আদালতে দায়ের হওয়া সিআর মামলা নং–১১৮/২০২৫-এর নথিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প বরাদ্দে অনিয়ম এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে। তবে মামলার তদন্তের বর্তমান অবস্থা, অভিযোগের সত্যতা কিংবা আদালতের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ই/এম সার্কেল–৪-এ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান, প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এবং বিল অনুমোদনে অনিয়ম সংঘটিত হতো। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



























