বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:৪৮, ৩০ মে ২০২৬

ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ দিল তীব্র ঝড়: এখনো অন্ধকারে শরীয়তপুরের বহু গ্রাম

ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ দিল তীব্র ঝড়: এখনো অন্ধকারে শরীয়তপুরের বহু গ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ঠিক আগের দিন শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের পর জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন বিপর্যয়। 

ঝড়ের আঘাতে উপড়ে পড়া গাছপালা এবং ভেঙে যাওয়া বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকা এখনো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন। ঈদের দিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ সচল না হওয়ায় তীব্র গরমে ও অন্ধকারে চরম ক্ষোভ ও ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ

 ঝড়ের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ না আসায় সবচেয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন ঘরের গৃহিণীরা। কোরবানি ও ঈদের বিশেষ রান্নাবান্না এবং ফ্রিজে রাখা খাবার নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম সংকট।

​কোদালপুরের স্থানীয় গৃহিণী নাজমা বেগম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ​"ঈদের আগের দিনের ঝড়ের পর থেইকা কারেন্ট নাই। ঈদের দিনে একটু শান্তিতে রান্নাবান্না করুম, সেই উপায়ও নাই। গরমে পোলাপানডি সারারাত ঘুমাইতে পারে নাই, কান্নাকাটি করতাছে। সবচেয়ে বড় বিপদ হইছে ফ্রিজের মাংস নিয়া। কারেন্ট না থাকায় ফ্রিজের সব বরফ গইলা পানি হয়া গেছে, মাংস নষ্ট হওয়ার উপক্রম হইছে। এই কষ্টের ঈদ আর কখনো দেখি নাই।"

​বিদ্যুৎ না থাকার কারণে গ্রামীণ বাজার ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। মোবাইল চার্জ দেওয়া থেকে শুরু করে সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এলাকাগুলোতে।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মাসুম ফকির বলেন, ​"ঝড়ে বহু জায়গায় তার ছিঁড়ে পইড়া আছে, খুঁটি ভাঙছে। কিন্তু এত বড় একটা উৎসবের দিনেও আমাদের মোবাইলগুলো বন্ধ হয়া আছে, দূর দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনের সাথে ঈদের দিন একটু যোগাযোগ পর্যন্ত করতে পারি নাই। দ্রুত কারেন্ট না দিলে এই গরম আর দুর্ভোগে মানুষ অসুস্থ হয়া পড়বে।"

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি: এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুৎ অফিসে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মিলছে না। মোমবাতি আর হাতপাখাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা।

​এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঝড়ের কারণে মেইন লাইনের ওপর বিশাল বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় এবং বেশ কিছু খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় পুরো সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মীরা কাজ করছেন, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় সংযোগ পুরোপুরি সচল করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ