বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:২০, ১ জুন ২০২৬

আম কুড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে দুই ভাইবোন

আম কুড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু, পাশাপাশি কবরে দুই ভাইবোন
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কেকুপাড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবনের পথচলায় যারা ছিল একে অপরের সঙ্গী, মৃত্যুর পরও তারা পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে গ্রামের কবরস্থানে।

নিহতরা হলো আসিফ (১১) ও সাথী আক্তার (৯)। তারা মৃত আইজুল ইসলাম নেন্দরের ছেলে ও মেয়ে। স্থানীয় একটি মাদরাসার মক্তবে পড়াশোনা করত তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩১ মে) সকালে দিনমজুর মা আছিয়া খাতুন জীবিকার তাগিদে কাজে যান। সন্তানদের বাড়িতে রেখেই তিনি কর্মস্থলে বের হন। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সন্তানদের দেখতে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

অনুসন্ধানের একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে আসিফের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুকুরে নেমে আরও খোঁজ চালিয়ে তলদেশ থেকে সাথী আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

স্থানীয়দের ধারণা, পুকুরপাড়ের একটি আমগাছ থেকে আম পাড়তে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, শিশু দুটির বাবা আগেই মারা গেছেন। মা আছিয়া খাতুন সীমাহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সন্তানদের মানুষ করার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ এমন নির্মম ঘটনায় তিনি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন।

চাকলাহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, "মায়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল সন্তান দুটি। তাদের মৃত্যু পুরো এলাকাবাসীকেই ব্যথিত করেছে।"

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১ জুন) বেলা ১১টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কেকুপাড়া কবরস্থানে দুই ভাইবোনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। একই মায়ের কোলজুড়ে বেড়ে ওঠা দুটি শিশুর জীবনযাত্রার সমাপ্তিও হলো পাশাপাশি দুটি কবরের নীরবতায়। তাদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ