তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
রাজধানীর আদাবরে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের নিষ্পত্তিতে ডাকা সালিশ বৈঠকে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) রাতে আদাবর থানার নবোদয় বাজার এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনায় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশা (৩৫) কুপিয়ে নিহত হন। একই ঘটনায় সংগঠনটির সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৭) আহত হয়েছেন।
ঘটনার পর দু’জনকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত পৌনে ১২টার দিকে আবুল বাসার বাদশা মারা যান।
নিহত আবুল বাসার বাদশার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার পূর্ব দলিলাহ গ্রামে। তাঁর পিতা আব্দুল গফুর। তিনি পরিবারসহ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের ১ নম্বর সড়কে বসবাস করতেন।
পুলিশের সূত্রে অনুযায়ী, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ শেষে নবোদয় হাউজিং এলাকায় কয়েকজন যুবক ঢোল বাজিয়ে উল্লাস করছিলেন। এ সময় আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিবুর রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে রিপনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রিপনকে চড়-থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
আদাবর থানা পুলিশ সূত্রে, ওই ঘটনার জেরে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে নবোদয় বাজারে রঞ্জুর দোকানে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে রিপন, নিরব, পারভেজ ও মাসুমসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি মো. সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাসার বাদশা মারা যান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিপন, নিরব, পারভেজ ও মাসুম স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা ১০০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মিরাজের অনুসারী বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানায়, "ব্রাজিলের খেলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একটি ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার মীমাংসার লক্ষ্যে বুধবার রাতে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠক চলাকালে দুর্বৃত্তদের হামলায় দুই বিএনপি নেতা গুরুতর আহত হলে তাদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল বাসার বাদশা মারা যান। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



























