শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশেষ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ৩ জুলাই ২০২৬

শেখ হেলালের ‘ক্যাশিয়ার’ খ্যাত প্রকৌশলী অমিতের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

শেখ হেলালের ‘ক্যাশিয়ার’ খ্যাত প্রকৌশলী অমিতের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, অনিয়ম, কমিশন গ্রহণ এবং শত কোটি টাকা ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি খুলনা অঞ্চলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৮তম বিসিএসের কর্মকর্তা অমিত কুমার বিশ্বাস চাকরিজীবনের বড় একটি সময় খুলনায় দায়িত্ব পালন করেন। সহকারী প্রকৌশলী, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দীর্ঘদিন একই এলাকায় প্রভাব বজায় রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দায়িত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, খুলনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে ওপেন টেন্ডার মেথড (ওটিএম) ব্যবহার করা হতো। এসব প্রকল্প থেকে কমিশন গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কাজ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সূত্রগুলোর দাবি, গোপালগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বাস্তবায়িত কিছু প্রকল্পের কাজেও অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে অমিত কুমার বিশ্বাসকে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে বদলি করা হয়। সেখানে যোগদানের পরও তিনি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে কয়েকটি প্রকল্পে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের সুবিধা দিতে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব টেন্ডারের মধ্যে ১০৮২৮৩০, ১০৭৮৪৬২, ১০৭৮৪৬৩, ১০৭২৮৭০, ১০৭২১০৩, ১০৭২৮৮০, ১০৭২৮৫২, ১০৭১৮৭২, ১০৭০৫৮৫, ১০৬৬৫৩৮, ১০৬৭৭৭৯, ১০৬৭৭৮০ এবং ১০৭০৫৮১ নম্বরের প্রকল্পের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, হুন্ডির মাধ্যমে শত কোটি টাকা ভারতে পাচার করা হয়েছে এবং সেখানে তার স্থায়ী বিনিয়োগ ও সম্পদ রয়েছে। এমনকি তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগও তদন্তের দাবি তুলেছে সংশ্লিষ্ট মহল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় ছয়তলা বাড়ি, ডুমুরিয়ায় প্রায় ২০ বিঘা মাছের ঘের, ঢাকার উত্তরায় দুটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে প্রায় ১০ একর জমিসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকা জমা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

গণপূর্ত বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদার দাবি করেছেন, অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র বেরিয়ে আসবে। তারা তার সম্পদের উৎস অনুসন্ধান, অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত এবং অবৈধ সম্পদ জব্দের দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অমিত কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়