শনিবার ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৮, ২৪ জুলাই ২০২৬

বন্যার প্রভাবে কাঁচাবাজারে মূল্যঝড়, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত

বন্যার প্রভাবে কাঁচাবাজারে মূল্যঝড়, চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাঁচাবাজারে যেন এক সপ্তাহেই বদলে গেছে দামপত্রের হিসাব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার প্রভাবে কৃষিপণ্য ও মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়েছে। কাঁচামরিচ থেকে শুরু করে সবজি, মাছ, পেঁয়াজ, ডিম ও মুরগি—প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ, যাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, তালতলা ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের অভিযোগ একটাই—এক সপ্তাহ আগের দামে এখন আর কোনো পণ্য মিলছে না।

তালতলা বাজারে মরিচ কিনতে এসে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন জহুরুল ইসলাম। তিনি ২০ টাকার কাঁচামরিচ চাইলে বিক্রেতা এনামুল বলেন, এখন ১০০ গ্রাম মরিচই ৩০ টাকা। পরে ২০ টাকার জন্য মাত্র ৭০ গ্রাম মরিচ মেপে দেন তিনি। জহুরুলের আক্ষেপ, “কিছুদিন আগেও ৩০ টাকায় ২৫০ গ্রাম মরিচ পাওয়া যেত। এখন সেই দামে মিলছে মাত্র ১০০ গ্রাম। এ দেশে রাতারাতিই সবকিছুর দাম বদলে যায়।”

বিক্রেতা এনামুল জানান, বর্তমানে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। মাত্র দুই দিন আগেও যার দাম ছিল ২০০ টাকা, আর বন্যা ও টানা বৃষ্টির আগে ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ২০০ টাকা বেড়েছে।

বাজারের বাইরের ভ্যানগুলোতেও প্রতি পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, যা কেজিতে প্রায় ২৮০ টাকার সমান। বর্তমানে পেঁপে ৪০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা কেজি ছাড়া অন্য প্রায় সব সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার আশপাশে।

রামপুরা বাজারে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ টাকা এবং শসা ও গাজর ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। কয়েকদিন আগেও যে পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, এখন সেই পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২৫ টাকা।

খুচরা বাজারে ভালো মানের বাছাই করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে। মাঝারি মানের পেঁয়াজের দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। পাইকারি বাজারে পাঁচ কেজির এক পাল্লা ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা।

পেঁয়াজ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় পেঁয়াজ আসে। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মোকামেই দাম বেড়ে গেছে। আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছি।”

ডিম ও মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগে ছিল ১৩০ টাকা এবং দেড়-দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১২০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিতে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। কিছুদিন আগেও দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন সেই মাছের দাম ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় উঠেছে। বিক্রেতাদের দাবি, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

শুধু রুই নয়, তেলাপিয়া, পাঙাশসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে।

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসুর রহমান বলেন, “সবকিছুর দাম এমনিতেই বেশি। এখন বৃষ্টির অজুহাতে মাছের দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

এদিকে চাষের চিংড়ির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১০০ টাকা বেশি। পাবদা মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। অন্যদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা।

জনপ্রিয়