মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ১৮ আগস্ট ২০২৬

৬১ হাজার টন এলএনজি ফিরিয়ে দিল পেট্রোবাংলা

৬১ হাজার টন এলএনজি ফিরিয়ে দিল পেট্রোবাংলা
ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত কারিগরি মান ও নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে না পারায় সৌদি আরামকোর সরবরাহ করা ৬১ হাজার টনের একটি এলএনজিবাহী জাহাজের চালান গ্রহণ করেনি পেট্রোবাংলা। তবে প্রত্যাখ্যাত এই কার্গোর পরিবর্তে নতুন একটি জাহাজে এলএনজি পাঠানোর কথা জানিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান।

লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘আলহামরা’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি প্রায় ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে গত ১১ আগস্ট মধ্যরাতে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে পৌঁছায়। কিন্তু জাহাজটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও টার্মিনালে ভেড়ানোর উপযোগিতায় ঘাটতি থাকায় সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) গ্যাস খালাস করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৯৯৭ সালে নির্মিত ‘আলহামরা’ জাহাজটি প্রায় ২৯ বছরের পুরোনো। মস-টাইপের এই এলএনজি ক্যারিয়ারের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ২৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৪৮ মিটার। এর ড্রাফট ১১ দশমিক ৩ মিটার।

এফএসআরইউতে গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজনীয় সংযোগ স্থাপন না হওয়ায় জাহাজটি টার্মিনালের কাছাকাছি অবস্থান করছিল।

পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) দীন মোহাম্মদ বলেন, গ্রহণ করার মতো নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে জাহাজটি। তিনি বলেন, এই কার্গো আমাদের অ্যাক্সেপটেন্সের ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি, যে কারণে এটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রত্যাখ্যাত চালানের পরিবর্তে নতুন একটি কার্গোর মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। তার ভাষায়, জাহাজটি ইতিমধ্যেই ফিরে গেছে। তারা আমাদের বিকল্প হিসেবে নতুন কার্গো সরবরাহ করবে।

তবে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি-গ্লোবালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক নুরুল আলম জানিয়েছেন, জাহাজটি তখনও মহেশখালী এলাকায় অবস্থান করছিল। তিনি বলেন, জাহাজটি এখনো মহেশখালীতেই রয়েছে। এটি খালাস না করে ফেরত নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা এলে সঠিক প্রক্রিয়া মেনে জাহাজটি ফেরত পাঠানো হবে।

এদিকে এলএনজি সরবরাহে এই ঘটনার কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। দীন মোহাম্মদ বলেন, এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিয়মিতভাবেই কার্গো ক্রয় ও সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক বজায় রাখার চেষ্টা করছি।

পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যাখ্যাত চালানের জায়গায় দ্রুত বিকল্প কার্গো আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি নির্ধারিত অন্যান্য চালানের মাধ্যমে দেশে এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়