মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১৮ আগস্ট ২০২৬

হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

হলের সিট নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাতের বিরুদ্ধে অন্য পক্ষের নেতাকর্মীদের ‘১০০ টুকরা করার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

এতে সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আবদুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান সিফাতের সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিহানের ভাষ্য, শফিক নামের এক শিক্ষার্থী তাঁর সিট অন্য এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে পরিবর্তন করেছিলেন। পরে ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি সাব্বির হোসেন শান্ত এসে আপত্তি জানান এবং যার সিট, তাঁকেই সেখানে থাকতে হবে বলে জানান। এ নিয়ে কয়েকজন তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে সিফাত সেখানে এসে কথা বলেন। একপর্যায়ে সিফাতের সঙ্গে অন্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

দিহান বলেন, “সিফাত খারাপ ব্যবহার করে এবং একপর্যায়ে মারার জন্য সবার দিকে এগিয়ে আসে। তখন সবাই মিলে তাকে থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় সে গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়, সোনাপুর বাজারে উঠলে দেখলে সবাইকে টুকরা টুকরা করবে।”

তিনি আরও বলেন, পরে সবাইকে শান্ত করে যার যার কক্ষে চলে যাই । কিছুক্ষণ পর সিফাত তাঁর ১৬ ব্যাচের এক বন্ধুকে ফোন করে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে আবার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৮তম ব্যাচের রাশেদ নামের এক শিক্ষার্থীর গায়ে সিফাত হাত তোলেন বলেও দাবি করেন দিহান।

এদিকে সিফাতের অভিযোগ, সিট নিয়ে সামান্য বাক্‌বিতণ্ডার জেরে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালান। তিনি বলেন, ফিশারিজ বিভাগের রায়হান কবির রাশেদ ও অর্থনীতি বিভাগের তানভীর ভূঁইয়াসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেন।

সিফাত আরও বলেন, “১০ আগস্টেও ওরা ছাত্রলীগ করেছে, এখন বড় ছাত্রদল হয়ে গেছে। ছাত্রলীগ দিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি চলে না। ছাত্রলীগের স্টাইলে পেশিশক্তির রাজনীতি নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি অভিযোগ করেন, “গুপ্ত শিবিরকে দিয়ে যখন কমিটি দেওয়া হয় আর ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি করা হয়, তখন তাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কী-ই বা আশা করতে পারি।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “আমি এসব বিষয়ে অবগত নই। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিও না। তবে বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে বলতে পারব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। হল প্রভোস্ট বডির সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও অবহিত করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

প্রক্টর বলেন, “আমরা প্রক্টরিয়াল বডির একটি সভা ডাকছি। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এরই মধ্যে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়