বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মাহফুজুল ইসলাম, যবিপ্রবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:১১, ২৬ মে ২০২৬

ঈদের ছুটিতে জনশূন্য যবিপ্রবি ক্যাম্পাস, আনন্দে মুখর গ্রামের বাড়ি

ঈদের ছুটিতে জনশূন্য যবিপ্রবি ক্যাম্পাস, আনন্দে মুখর গ্রামের বাড়ি
ছবি: প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আযহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির দীর্ঘ অবকাশে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। কয়েকদিন আগেও শিক্ষার্থীদের পদচারণা, আড্ডা আর কোলাহলে মুখর থাকা ক্যাম্পাসে এখন নেমে এসেছে ভিন্ন এক নীরবতা। কেন্দ্রীয় মাঠ, টিএসসি, ক্যাফেটেরিয়া, লাইব্রেরি সংলগ্ন এলাকা, আবাসিক হলের বারান্দা এবং ক্যাম্পাসসংলগ্ন দোকানপাট ও আমবতলা বাজারের চায়ের স্টলগুলোতেও কমে গেছে পরিচিত সেই ব্যস্ততা।

জোড়া ছুটির সুযোগে অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। দীর্ঘদিনের ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব ও পরীক্ষার চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে এই ছুটিকে বিশেষভাবে উপভোগ করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ত জীবনের বাইরে পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় তাদের মানসিক প্রশান্তি দিচ্ছে। বিশেষ করে মায়ের হাতের রান্না, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা এবং ঈদকে ঘিরে গ্রামের উৎসবমুখর পরিবেশ তাদের কাছে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। এবারের ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি গ্রামে কেমন কাটছে—সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অনুভূতি তুলে ধরেছেন সংবাদ পরিক্রমা  যবিপ্রবি প্রতিনিধি মাহফুজুল ইসলাম।

ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ঋতু সরকার বলেন, “আমার কাছে ঈদ মানেই আনন্দ ও পরিবারের কাছে ফেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার পর বাড়ি ফেরার অনুভূতিটা ভীষণ প্রশান্তির। ছুটি মানে, বাসার দূরত্ব যতই বেশি হোক, কোনো ক্লান্তিই আর মনে হয় না। মায়ের হাতের রান্না, বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো আনন্দ দিচ্ছে। তবে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলোও মনে পড়ছে। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটি আমার কাছে আনন্দ ও স্মৃতির মিশ্র অনুভূতি।”

ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ হাসান বলেন, “ছুটিতে বাড়ি এসে ক্যাম্পাসের হল ও দোকানের খাবারের সঙ্গে তুলনা করলে বাড়ির খাবার সত্যিই আলাদা মনে হয়। এখানে যখন ইচ্ছা তখনই ভাত খাওয়া যায়, কোনো বিলও দিতে হয় না। মায়ের হাতের রান্না আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই সবচেয়ে বড় আনন্দ। পাশাপাশি ছুটিতে বাবার কাজেও একটু সাহায্য করছি। সব মিলিয়ে সময়টা আমার কাছে খুব ভালো কাটছে।”

রসায়ন বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা বলেন,
“ক্যাম্পাস জীবনের ব্যস্ততা যদি একটি মুদ্রার এক পিঠ হয়, তবে দীর্ঘ ছুটি তার অন্য পিঠ। অ্যাসাইনমেন্ট, ল্যাব রিপোর্ট, সিটি পরীক্ষা ও ক্লাসের চাপ শেষে এই ছুটিতে বাড়ি ফিরে সময়টা খুব ভালো কাটছে। পরিবারের সান্নিধ্য, মায়ের হাতের রান্না আর ঘরের শান্ত পরিবেশে দিনগুলো উপভোগ করছি। এই সময়টা আমাকে মানসিকভাবে প্রশান্তি দিচ্ছে এবং নতুন করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার শক্তি যোগাচ্ছে।”

ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বলেন, “পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝে ঈদে বাড়িতে এসে পরিবার ও আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আমি মানসিক প্রশান্তি পাচ্ছি। আম্মুর রান্না, আড্ডা আর সবার সঙ্গে হাসি-খুশির মুহূর্তগুলো এই ছুটিটাকে আমার কাছে বিশেষ করে তুলেছে।”

পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, “এইবার ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি একসঙ্গে হওয়ায় লম্বা ছুটি পেয়েছি। ক্লাস ও একাডেমিক চাপের মাঝে এই ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি পাই। মায়ের হাতের রান্না, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর ঈদের আনন্দ সব মিলিয়ে ছুটিটা আমার কাছে খুবই আনন্দের।”

ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মোছা. রিপা আক্তার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যস্ততার মাঝে দীর্ঘ ছুটি সবসময়ই স্বস্তির, তবে অনেক সময় মন চাইলেও ছুটি মেলে না। এবার একসঙ্গে দুই ছুটি মিলে যাওয়ায় বাড়ি ফেরার আনন্দটা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। পরিবার ও আপনজনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিক প্রশান্তি পাই, যা আবার নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় ফিরতে অনুপ্রেরণা দেয়।”

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ