সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৫০, ৯ আগস্ট ২০২৬

পারশা মাহজাবিন

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙা শুরু হয় যেদিন, সেদিনই জুলাইয়ের ধ্বংস শুরু হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙা শুরু হয় যেদিন, সেদিনই জুলাইয়ের ধ্বংস শুরু হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

গত ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ কনসার্টে দর্শক সারি থেকে আর্ক ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হাসানকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়ে মারার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবিন।

ওই কনসার্টে নিজেও পারফর্ম করা এই শিল্পী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক নৈতিকতা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিও বার্তায় পারশা মাহজাবিন বলেছেন, ‘একজন শিল্পীর মুখে ছুঁড়ে মারা একটি বোতল, আজকে আমাকে শুধু শিল্পী নিরাপত্তা নয়, জুলাইয়ের নৈতিকতার পরিণতি নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করছে। প্রশ্নটি এখন আর শুধু এই নয় যে হাসান ভাইয়ের দিকে কে বোতল ছুঁড়ে মেরেছে, প্রশ্নটি আসলে যে জুলাই মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল, সেই জুলাইয়ের মঞ্চেই একজন শিল্পীর মর্যাদা পদদলিত হলো কীভাবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত ৫ আগস্ট বর্ষা বিপ্লবের গান কনসার্টে আমিও পারফর্ম করেছি, সেখানে আর্ট ব্যান্ডের ভোকালিস্ট হাসান ভাইয়া, তাকে লক্ষ্য করে দর্শক সারি থেকে পানির বোতল ছুঁড়ে মারা হয়েছে এবং তাঁর মুখে, আমি এই ঘটনায় গভীরভাবে ব্যথিত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। হাসান ভাইয়ের দিকে ছুঁড়ে মারা বোতলটি শুধু একজন ব্যক্তি হাসানের গায়ে লাগেনি, পুরো শিল্পী সমাজের মর্যাদায় আঘাত করেছে।’

জুলাই আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেছেন,  ‘জুলাই কোনো দল, গোষ্ঠী কিংবা ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জুলাইয়ের নামে কাউকে দেশপ্রেমের সনদ দেওয়া কিংবা কারোর নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এখতিয়ার কারো নেই।’

আন্দোলনের অর্জনের অবক্ষয় তুলে ধরে তিনি শেখ হাসিনার পোশাক নিয়ে উল্লাস করা এবং সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুরের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন, ‘আচ্ছা জুলাইয়ের অর্জন কি সেদিনই ধূলিসাৎ হয়নি যেদিন শেখ হাসিনার অন্তর্বাস দাবি করে একটি নারীর প্রাইভেটগার্মেন্টস নিয়ে উল্লাস করেছিলেন? জুলাইয়ের ধ্বংস কি সেদিন থেকে শুরু হয়নি যেদিন থেকে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলো ভাঙা শুরু হয়েছে? একটি বিষয় খুব স্পষ্ট করে মনে রাখা প্রয়োজন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একবারই ১৯৭১ সালে। জুলাই সফল হয়েছিল কেবল কয়েকজন সমন্বয়ক, নেতা কিংবা রাজনৈতিক কর্মীর কারণে নয়, আমাদের মতো অসংখ্য সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল বলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, শিল্পী সাধারণ নাগরিকের সাহসই কিন্তু আসল শক্তি ছিল।’

সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবিন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য ও মর্যাদার জায়গাটি তুলে ধরেছেন। তার মতে, বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন হয়েছে একবারই—১৯৭১ সালে। 

‘স্বাধীনতা একটি রাষ্ট্রের জন্ম দেয়, আর গণঅভ্যুত্থান একটি বিদ্যমান রাষ্ট্রকে স্বসংস্কার, সংশোধন এবং জবাবদিহিতার পথে ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়। দুটির ঐতিহাসিক মর্যাদা আছে, কিন্তু দুটোকে এক করা হলে ১৯৭১ ও ২০২৪ দুটি ইতিহাসের প্রতিই অবিচার করা হয়। আমরা আইনের শাসন চাই, মবের শাসন নয়। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে আমি যাকে পছন্দ করি তাকে দেশপ্রেমিক আর যাকে পছন্দ করি না তাকে দেশদ্রোহী বলব।’ বলেছেন পারশা। 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়