পদক হাতবদল হলেও নোবেলের স্বীকৃতি বিজয়ীরই: নোবেল কমিটি
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর কাছ থেকে কখনোই এই পুরস্কারের সম্মান ও স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া যায় না। তবে বিজয়ী চাইলে নোবেল পদকটি অন্য কাউকে উপহার দিতে পারেন—এমন ব্যাখ্যা দিয়েছে নোবেল কমিটি।
গত বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো তার নোবেল পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার এক দিন পর, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ অবস্থান স্পষ্ট করে নোবেল কমিটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার মাচাদো আনুষ্ঠানিকভাবে তার নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন। এ সময় ট্রাম্প তাকে ধন্যবাদ জানান। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, সোনার ফ্রেমে বাঁধানো পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দিচ্ছেন মাচাদো। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প পদকটি নিজের কাছেই রাখতে চান।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের অংশ হিসেবে মাচাদো একটি সম্মাননাপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার) অর্থ পুরস্কার পেয়েছেন।
নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, পদক, সম্মাননাপত্র কিংবা পুরস্কারের অর্থের ভাগ্যে যা-ই ঘটুক না কেন, প্রকৃত বিজয়ীর নামই আজীবন নোবেল পুরস্কারের নথিতে সংরক্ষিত থাকবে। এই স্বীকৃতি কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিজয়ী ব্যক্তি পদক বা অর্থ পুরস্কার কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে নোবেল ফাউন্ডেশনের কোনো বাধ্যবাধকতা বা নিয়ন্ত্রণ নেই। অর্থাৎ বিজয়ী চাইলে এসব স্মারক নিজের কাছে রাখতে পারেন, দান করতে পারেন কিংবা বিক্রি করতেও পারেন।
পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি জানায়, পদক ও সম্মাননাপত্র মূলত নোবেল পুরস্কারের বস্তুগত প্রতীক। প্রকৃত মূল্য নিহিত রয়েছে সম্মান ও স্বীকৃতিতে, যা বিজয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত থাকে।
নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে ট্রাম্প বা মাচাদোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে জানায়, পুরস্কার ঘোষণার পর কোনো বিজয়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা মন্তব্য করে না।
এর আগে গত সপ্তাহে মাচাদো বলেছিলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেবেন। সে সময় নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও স্থায়ী।
উল্লেখ্য, নোবেল পদক উপহার দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ১৯৪৩ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী ন্যুট হামসুন তার পদক জার্মান স্বৈরশাসক অ্যাডলফ হিটলারের প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে উপহার দিয়েছিলেন।
এ ছাড়া শান্তিতে নোবেলজয়ী দিমিত্রি মুরাতভ ২০২২ সালে ইউক্রেনের শরণার্থী শিশুদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহের জন্য নিজের নোবেল পদক ১০ কোটি ডলারে নিলামে বিক্রি করেন।
২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ও সম্মাননাপত্র তার স্ত্রী জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে দান করেন।



























