সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৬, ১৭ আগস্ট ২০২৬

যুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে বিজয়ী ইরান: গালিবাফ

যুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে বিজয়ী ইরান: গালিবাফ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে চলা ‘অন্যায় যুদ্ধে’ সামরিক ও রাজনৈতিক- দুই দিক থেকেই তেহরান বিজয়ী হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ।

রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফের বক্তব্য প্রকাশ করে প্রেস টিভি। গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বে চলা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ইরান দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিয়েছে। তার ভাষায়, ‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, এই যুদ্ধে আমরা সত্যিই সামরিক ও রাজনৈতিক- দুই দিক থেকেই বিজয়ী হয়েছি।’

ইরানের এই পার্লামেন্ট স্পিকারের বক্তব্য এমন সময় এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারককেও গালিবাফ ‘গর্ব ও বিজয়ের’ উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ইরানের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে। গালিবাফ আরো বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক গর্ব ও বিজয়ের উৎস। এটি কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্যকে আরো শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
’ তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও ইরান নিজেদের অবস্থানকে সফল হিসেবে তুলে ধরছে।

এদিকে রবিবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের দাবি পূরণ এবং এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত না করা পর্যন্ত ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পিছু হটবে না। জেনারেল স্টাফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের জনগণের দৃঢ় ইচ্ছা ও সংকল্পের প্রতি সম্মান জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনী তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় ইরানের জনগণের ন্যায্য দাবি এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান থেকে সশস্ত্র বাহিনী সরে যাবে না।

এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পুরোপুরি পরাজিত করা, ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা করা এবং শত্রুকে আত্মসমর্পণে বাধ্য না করা পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবে।

এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়েও নতুন আলোচনা চলছে। ইরান জানিয়েছে, ওমানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা। ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে নতুন একটি নৌপথ নির্ধারণের বিষয় রয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শনিবার বলেছেন, ওমানের সঙ্গে চলা আলোচনা এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি এক নয়। তিনি বলেন, প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়া হবে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্রকে আরো কিছু শর্ত পূরণ করার ওপর নির্ভর করবে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।

জনপ্রিয়