সোমবার ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:২১, ১৭ আগস্ট ২০২৬

গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে এনজিও মালিক রাব্বানী উধাও

গ্রাহকদের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে এনজিও মালিক রাব্বানী উধাও
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আলিয়াবাদ-মশুড়া ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ‘রূপসী বাংলা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা প্রায় অর্ধকোটি টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাব্বানী সরদার ও ব্যবস্থাপক মো. মতিন সরদার আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় দুই শতাধিক গ্রাহক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই সমিতিতে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত সঞ্চয় ও এফডিআর হিসেবে টাকা জমা রাখতেন। সম্প্রতি কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে পরিচালক ও ব্যবস্থাপকের খোঁজ না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে নিয়মিত মুনাফা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন জমা করা মূলধনও ফেরত পাচ্ছেন না তারা।

পালশা গ্রামের ভুক্তভোগী তোতা মিয়া বলেন, ‘আলিয়াবাদ গ্রামের মাসুদের বাসায় পরিচালিত ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে বাড়ির এক জোড়া গরু বিক্রি করে পাওয়া ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এফডিআর হিসেবে জমা রেখেছিলাম। তবে রাব্বানী সরদার আমাকে কোনো রশিদ দেননি। এখন টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি উধাও হয়েছেন।’

মোহনগঞ্জ গ্রামের মাজেদুল ইসলাম মুকুল বলেন, ‘কৃষি পানবরজের পান বিক্রি করে পাওয়া পাঁচ লাখ টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলাম। কর্তৃপক্ষের এভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।’

একই গ্রামের মারুফা বেগম জানান, পরিবারের একমাত্র সঞ্চয় থেকে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে দুই লাখ টাকা এফডিআর করেছিলেন। তার ভাষ্য, ‘প্রথম দুই মাস মুনাফা দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো টাকা দেওয়া হয়নি। এখন মূল টাকাটাও ফেরত পাচ্ছি না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।’

লাউপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী জুয়েল অভিযোগ করেন, রাব্বানী সরদার ও ব্যবস্থাপক মো. মতিন সরদার তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা এফডিআর হিসেবে গ্রহণ করেন। এর বিপরীতে রাব্বানী সরদারের স্বাক্ষর করা একটি ফাঁকা ব্যাংক চেকও তাকে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে দুই শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জমা নেওয়া হয়েছে। তবে এ অর্থের সঠিক পরিমাণ এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

গ্রাহকরা তাদের জমা করা অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আমানত সংগ্রহ এবং অর্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাব্বানী সরদার ও ব্যবস্থাপক মো. মতিন সরদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়