বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৭, ২০ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান : ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম

যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান : ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম
ছবি: সংগৃহীত

রাজপরিবারের সক্রিয় সদস্যের দায়িত্ব ছাড়ার ছয় বছর পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাজ্যে ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান। বুধবার রাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।

বিস্ময়কর এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ব্রিটিশ সংবাদপত্র টেলিগ্রাফ বলেছে, রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ছেলে হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান ‘মাসের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা লন্ডনের বাইরে অবস্থিত বলে একটি ব্যক্তিগত, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কহীন বাসভবনে উঠবেন।’

লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এ্এফপি এ খবর জানিয়েছে।

বিবিসিসহ যুক্তরাজ্যের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দম্পতির দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি (৭), ও প্রিন্সেস লিলিবেট(৫), সেপ্টেম্বরের শুরুতে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর জন্য ইতোমধ্যে একটি ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি হয়েছে।

জানা গেছে, দম্পতি ইতোমধ্যে নতুন একটি বাড়ি পছন্দ করেছেন। তবে সেটি রাজপরিবারের অনেক বাসভবনের কোনোটি নয়।

২০২০ সালে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে হ্যারি ও মেগান ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করছেন। ২০২২ সালের পর থেকে তাদের সন্তানরা দাদা রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করেনি।

৪১ বছর বয়সী হ্যারি ও ৪৫ বছর বয়সী মেগান ২০২০ সালে পরিবারের সঙ্গে তীব্র বিরোধের মধ্যে ব্রিটেন ছেড়ে উত্তর আমেরিকায় চলে যান। হ্যারি তার সবকিছু খোলাসা করে লেখা স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ প্রকাশ করার পর সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়।

মার্কিন টকশো সঞ্চালক অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে তাদের খোলামেলা সাক্ষাৎকারও পারিবারিক দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রেস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ৭৭ বছর বয়সী রাজা চার্লসকে রোববার জানানো হয় যে, সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস যুক্তরাজ্যে ফিরে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজা ‘ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের আরও সদস্যকে দেখার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন’। তবে তাদের মর্যাদায় কোনো পরিবর্তন আসবে না। দম্পতি রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যও হবেন না।

-‘অসাধারণ ঘটনা’-

জুলাইয়ের শুরুতে সন্তানদের নিয়ে হ্যারি ও মেগানের সংক্ষিপ্ত যুক্তরাজ্য সফরের কয়েক সপ্তাহ পরই এই বিস্ময়কর খবর এলো। ওই সফরে তারা চার্লসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেছিলেন।

দুই বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন চার্লস। তবে কী ধরণের ক্যানসার, তা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। গত বছর হ্যারি বলেছিলেন, তিনি তার বাবার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে চান।

হ্যারির বড় ভাই ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী ক্যাথরিন এ খবর সম্পর্কে অবগত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুই ভাইয়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং তারা এখন আর কথা বলেন না বলে জানা গেছে।

রাজপরিবার বিষয়ক বিশ্লেষক রিচার্ড ফিটজউইলিয়ামস জিবি নিউজ টেলিভিশনকে বলেন, এটি ‘অসাধারণ ঘটনা’।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রথম ভাবনা, সত্যি বলতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে সফল হতে পারেনি মূলত তারা হলিউডের এ-লিস্ট তারকা হতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

২০২০ সালে দম্পতি নেটফ্লিক্সের সঙ্গে বড় ধররে একটি চুক্তি করেন। এর মূল্য নিশ্চিত না হলেও তা ১০ কোটি ডলার বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল। তবে তাদের অনেক প্রকল্পই দর্শকদের মন জয় করতে পারেনি।

২০২৫ সালের আগস্টে মার্কিন এই স্ট্রিমিং জায়ান্টের সঙ্গে করা নতুন চুক্তিটিও ছিল তুলনামূলকভাবে শিথিল। এটিকে ‘বহু বছরের ফার্স্ট লুক চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।

দ্য সান জানিয়েছে, দম্পতি ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোর বাড়িটি রেখে দেবেন। পাশাপাশি পর্তুগালে থাকা একটি বাড়িও রাখবেন। ধারণা করা হয়, চলতি গ্রীষ্মে সেখানে তারা কিছুদিন ছুটি কাটিয়েছেন।

জুলাইয়ে হ্যারির যুক্তরাজ্য সফরের আগেও নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। হ্যারির ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানায়, তিনি লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসে থাকবেন। পরে প্রাসাদ কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়