রোববার ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১২, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়ছে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকম্পের আশঙ্কা বাড়ছে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
ছবি: সংগৃহীত

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, আপনারা সম্প্রতি একটা বড় ভূমিকম্প দেখেছেন। এটা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। কিন্তু এরচেয়ে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। সেটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকম্প।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘অর্থনৈতিক সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পুরানা পল্টনস্থ ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসূচক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সাবেক সচিব ফারুক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক। অর্থসূচকের সম্পাদক জিয়াউর রহমানের সম্পাদনায় বইটি প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংক খাতের গোপন খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি, পুঁজি ঘাটতি—সব সংকট একে একে সামনে আসছে। বিনিয়োগ স্থবির, নীতিগত স্বচ্ছতা কম এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার না থাকায় অর্থনীতি চাপে রয়েছে। শরীরে (ব্যাংকের) যে এত রোগ, তা আগে জানা-ই যায়নি। তিনি বলেন,  দীর্ঘদিন ঢেকে রাখা খেলাপি ঋণের পাহাড়, প্রভিশনের গর্ত আর তারল্য সংকট—সব অসুখ এখন একে একে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। একসঙ্গে ধরা পড়া এসব দুর্বলতা বাংলাদেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে তিনি জানান। ড. দেবপ্রিয় বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া হঠাত্ বিদেশি বিনিয়োগ ঘোষণা ও নীতিগত অস্পষ্টতা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো দুর্বল করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনীতির পথ রুদ্ধ করছে। তিনি ব্যাংকিং খাতের সমস্যার সমাধানে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা, প্রশাসক নিয়োগ বা কিছু নিয়ম আগের অবস্থায় ফেরানো—এসবের বাইরে সুশাসন নিশ্চিত করতে কী করা হয়েছে? বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ অত্যন্ত দুর্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যক্তি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সুদের হারসহ নীতিগত দিকনির্দেশনাও এখনো পরিষ্কার নয়।

ড. দেবপ্রিয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, সরকার সংস্কার ইস্যুতে রিলেরেসের মতো করে দৌড়াবে। আমরা দেখছি, তারা দৌড়াতে দৌড়াতে লাঠিটা ফেলে দিয়েছেন। এখন লাঠি ছাড়াই দৌড়াচ্ছেন।’ তিনি বলেন, সরকার মাত্র ১৩ দিনে বিশাল বিদেশি বিনিয়োগ অনুমোদন ও চুক্তি করতে পেরেছে। এটা ইঙ্গিত করে, সরকারের সামর্থ্যের ঘাটতি নেই। চাইলে সংস্কারগুলোও একইভাবে এগিয়ে নিতে পারত।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার বলছে, পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করা হয়েছে। আসলে তা একীভূতকরণ নয়, এগুলোকে বেইলআউট করা হয়েছে। এভাবে একীভূতকরণ হয় না। এমন সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক তো আরো রয়েছে, সেগুলোর কী হবে? তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে দেশের পুঁজিবাজার ৫০ শতাংশ ডাউন হয়েছে। এই বাজার অনাথের মতো। দেখার কেউ নেই।

জনপ্রিয়