রোববার ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:২৫, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

জামায়াতের লাল-সবুজ মঞ্চ নিয়ে সমালোচনার ঝড়

জামায়াতের লাল-সবুজ মঞ্চ নিয়ে সমালোচনার ঝড়
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ভাষানটেক এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশকে ঘিরে ব্যবহৃত মঞ্চের লাল-সবুজ নকশা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। 

শুক্রবার ঢাকা-১৭ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত যুব-ছাত্র ও নাগরিক সমাবেশের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই অনলাইনে নিন্দা ও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।

জামায়াতের সমাবেশের লাল-সবুজের সিঁড়ি ও কার্পেটের ছবি প্রকাশ্যে আসার পর এটিকে স্বাধীনতার রক্তে রঞ্জিত লাল-সবুজ পতাকা অবমাননা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, এমন ডিজাইন শহীদদের ত্যাগ এবং দেশের মর্যাদাকে খাটো করার প্রচেষ্টা। 

সমালোচকদের দাবি, দেশের পতাকা জাতীয় অহংকার ও স্বাধীনতার প্রতীক। স্বাধীনতার সংগ্রামে হাজারো মানুষের জীবন ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এই পতাকাকে পদদলিত করা যায় না। তাই এমন অভব্য ডিজাইন দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে হেয় করার সামিল।

অনেকে মনে করছেন, এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাতীয় প্রতীককে হেয় করার চেষ্টা। লাল-সবুজের সিঁড়ি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা স্বাধীনতার ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে অগ্রাহ্য করছে। সমালোচনার অন্যতম কারণ হলো, পাকিস্তানি সবুজ রঙের ব্যবহার লাল-সবুজের ওপর সরাসরি ছাপিয়ে গেছে, যা অনেকের কাছে পতাকার প্রতি অসম্মান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কিছু মানুষের মতে, এমন ডিজাইন একদিকে জাতীয় অনুভূতিকে ক্ষুণ্ন করছে, অন্যদিকে দেশের ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে হেয় করছে। এ ধরনের সেট ডিজাইন জাতীয় রঙের মর্যাদা রক্ষা এবং জাতীয় চেতনা বজায় রাখার স্বার্থে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, জাতীয় প্রতীক ও স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে দেশের মানুষ সর্বদাই সতর্ক, এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই মর্যাদা রক্ষায় অটল থাকবে।

ঢাকা-১৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক আমিনুল হক লিখেছেন, পতাকা অবমাননা করা মানে দেশকে অবমাননা করা—এটা কোনো দেশপ্রেমিক বাংলাদেশির পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়। এই দেশের মানুষ, মাটি, সংস্কৃতি সবকিছুই টিকে আছে আমাদের জাতীয়তাবাদী চেতনা, স্বাধীনতার মূল্যবোধ এবং দেশীয় সংস্কৃতির গর্ব ধারণ করে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সময় সময় দেশবিরোধী শক্তি নানা কৌশলে বাংলাদেশের মর্যাদাকে খাটো করার চেষ্টা করে। কখনো জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা, কখনো পতাকার প্রতি অশ্রদ্ধা, আবার কখনো আমাদের জাতীয়তাবাদী সত্ত্বাকে ট্যাকনিক্যালি দুর্বল দেখানোর অপচেষ্টা সবকিছুই একই ধারার ষড়যন্ত্র।

এই দেশের জনগণ এসব অপচেষ্টা বরাবরই প্রতিহত করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। বাংলাদেশের মানুষ দেশকে ভালোবাসে, পতাকাকে শ্রদ্ধা করে, এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সবসময় অটল থাকবে। সবার আগে বাংলাদেশ।

জনপ্রিয়